ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে/অবস্থানে থাকা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা ও সাম্প্রতিক অডিও-ভিডিও বার্তা প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আজ সোমবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বিদেশে অবস্থান করে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের পলাতক, বিতর্কিত এবং আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত বা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় করার একটি অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে তাঁর স্পষ্ট ধারণা। প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামির রাজনৈতিক বক্তব্যকে অন্তর্বর্তী সরকার বা বর্তমান নির্বাচিত সরকার কোনোভাবেই আমলে নেওয়ার বা বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না।
শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করে মনে করিয়ে দেন যে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রচলিত আদালত দ্বারা একজন প্রমাণিত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি যদি নিজে থেকে দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণ করতে চান, তবে দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন ও আদালতের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে দেশের মাটিতে পা রাখার বা আত্মসমর্পণের সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে সরাসরি কারাগারে যেতে হবে এবং পরবর্তী সব আইনি কার্যক্রম সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পাদিত হবে। তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা বা সাজা কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে পুরোদমে চলমান রয়েছে। যেকোনো দেশের সঙ্গে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ বা কূটনৈতিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই এই কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পরিচালিত হচ্ছে।
আত্মসমর্পণ ও ভারতের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর অবস্থান
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ঠিক কোথায় আত্মসমর্পণ করতে পারেন এবং ভারতের সঙ্গে এই বক্তব্যের জেরে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা যোগাযোগ করা হবে কিনা—সে বিষয়ে একগুচ্ছ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
“শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এসে আইনের মুখোমুখি হবেন নাকি বিদেশে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক মিশনে গিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন—এটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে তিনি যেখানেই আত্মসমর্পণ করুন না কেন, আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এর কোনো তারতম্য বা পার্থক্য হবে না। আত্মসমর্পণের পর একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে আইন অনুযায়ী তাঁকে পরবর্তী কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতেই হবে।”
ঢাকা-দিল্লি নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ
| কূটনৈতিক ও আইনি বিষয় | সরকারের বর্তমান অবস্থান ও কৌশল (১৩ জুলাই, ২০২৬) |
| আসামির বক্তব্যের গুরুত্ব | সরকার এসব রাজনৈতিক বক্তব্যকে বিন্দুমাত্র আমলে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না। |
| আইনি প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা | শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন হয়েছে, এখন কেবল সাজা কার্যকরের অপেক্ষা। |
| ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ | দুই দেশের নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী এই বিষয়টি টেবিলে তোলা হয়। |
ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার ঘনঘন দেওয়া বক্তব্য ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ নিয়ে ভারত সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুমাত্রিক বিষয়ে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা চালু রয়েছে। এসব নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার টেবিলে প্রয়োজন অনুযায়ী এই বিষয়টিও বিভিন্ন সময়ে যথাযথভাবে উত্থাপন করা হয়। তবে একজন সাজাপ্রাপ্ত শীর্ষ আসামি দেশের বাইরে পালিয়ে থাকলেও দেশের ভেতরে তাঁর বিচার, দণ্ড ও আইনি প্রক্রিয়ার গুণগত বা কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন।


















