আজ সকাল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের পর আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে, আজ রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে তীব্র দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভূত আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর নদীবন্দরগুলোকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া সংস্থাটি। আজ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাসে এই জরুরি তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে—রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থেকে মাঝারি থেকে ভারী বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে সম্ভাব্য নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে এসব এলাকার সব নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ-সতর্কসংকেত (Cautionary Signal No. 1) দেখাতে বলা হয়েছে।
সতর্কবার্তা পাওয়া ১৭টি জেলার তালিকা ও প্রস্তুতি
| অঞ্চল/বিভাগ | সতর্কবার্তা প্রাপ্ত জেলার তালিকা (১২ জুলাই, ২০২৬) | নৌ-নিরাপত্তা ও সতর্কসংকেত |
| ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী | ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর এবং ময়মনসিংহ। | অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ। |
| উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল | রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া এবং যশোর। | ছোট ও মাঝারি আকারের নৌযান ও ট্রলারগুলোকে তীরের কাছাকাছি সাবধানে চলাচলের পরামর্শ। |
| দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় | খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার। | উপকূলীয় এলাকায় বজ্রপাতের সময় উন্মুক্ত স্থানে না থাকার বিশেষ অনুরোধ। |
| পূর্বাঞ্চল | সিলেট অঞ্চল। | পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক জলাবদ্ধতা বৃদ্ধির শঙ্কা। |
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সম্পূর্ণ সক্রিয় থাকার কারণে এবং বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি হওয়ায় এই আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে বিশেষ সতর্কতায় জানানো হয়েছে, ঝড়ের সময় নদীতে তীব্র ঢেউয়ের সৃষ্টি হতে পারে, তাই ছোট ছোট লঞ্চ, স্পিডবোট ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবধানে এবং তীরের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে অনুরোধ করা হয়েছে। সাধারণ জনগণকে বজ্রপাতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে বৃষ্টি ও ঝড়ের সময় পাকা দালানের নিচে বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



















