রবিবার , ১২ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

হরমুজে উত্তেজনার জেরে ইরানে রাতভর মার্কিন হামলা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ১২, ২০২৬ ৪:০৪ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালিতে একটি আন্তর্জাতিক কনটেইনার জাহাজে ইরানের এলিট ফোর্স আইআরজিসি কর্তৃক হামলার ঘটনার জেরে ইরানি ভূখণ্ডে আবারও রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আজ রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে এই বিধ্বংসী বিমান অভিযান শুরু করা হয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক উত্তেজনা এখন যুদ্ধের চূড়ান্ত চরমে পৌঁছেছে।

সাইপ্রাসের জাহাজে হামলা ও নাবিক নিখোঁজ

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অফিশিয়াল দাবি অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই সংঘাতের সর্বশেষ সূত্রপাত হয় সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি’ (M/V GFS Galaxy)-র ওপর আইআরজিসি-র হামলার মাধ্যমে। ইরানি বাহিনী দাবি করে, জাহাজটি আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে এবং অননুমোদিত রুট ব্যবহার করে তাদের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ উপেক্ষা করায় এবং জিপিএস ট্র্যাকিং বন্ধ রাখায় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ও প্রজেক্টাইল ছোড়া হয়। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতে, ইরানি হামলায় কন্টেইনার জাহাজটির ইঞ্জিন রুম গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন বেসামরিক নাবিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনার পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে।

মার্কিন বিমান হামলা ও ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা

আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং “যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুদের নতুন ও পুরোনো সব ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে”—এমন চরম হুঁশিয়ারির ঠিক এক ঘণ্টার মাথায় মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের নির্দিষ্ট কিছু সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ শুরু করে।

এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্ববর্তী অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণ বাতিলের ঘোষণা দিলেও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকট নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনার দরজা এখনো একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে এই রাতভর হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আগুন ও ট্রাম্পের নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই কার্যকর নৌ-অবরোধ এবং মার্কিন বিমান হামলার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে।

হরমুজ সংকটের মূল প্রভাবসমূহআন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক খতিয়ান (জুলাই ২০২৬)
জালানি তেলের দামআন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ক্রুড অয়েলের দাম রেকর্ড পরিমাণে আকাশছোঁয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপহরমুজ রুট বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) চাপ তীব্র হচ্ছে।
রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ২০২৬ সালের নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় অগ্নিপরীক্ষা।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পরিস্থিতি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি বিশাল রাজনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের অনমনীয় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনধিকার চর্চা ও উসকানিমূলক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক বা সামরিক জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

সর্বশেষ - অপরাধ