সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার কঠিন ও উপযুক্ত প্রতিশোধ নেওয়ার তীব্র অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (IRGC) শীর্ষ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক প্রতিশোধ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড কখনো ইতিহাসের স্মৃতিপট থেকে মুছে যাবে না।” ইরানের রাষ্ট্রীয় সেপাহ নিউজ এজেন্সির (Sepah News) বরাতে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে জেনারেল ওয়াহিদি অনতিবিলম্বে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের—বিশেষ করে ‘শিশুহত্যাকারী মার্কিন সামরিক বাহিনী’ ও জায়নবাদী ইসরাইলি প্রশাসনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার জন্য প্রতিরোধ ফ্রন্টের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
‘প্রতিরোধের পতাকাকে মাটিতে নামিয়ে আনা যাবে না’
আইআরজিসি-এর এই শীর্ষ কমান্ডার মার্কিন প্রশাসন ও তাদের মিত্রদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন:
- কাপুরুষোচিত হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধী নেতা এবং ইসলামি বিপ্লব ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের (Axis of Resistance) সমস্ত শত্রুদের খুব ভালো করে জেনে রাখা উচিত যে, এই স্বর্গীয় নেতাকে কাপুরুষোচিতভাবে হত্যা করে তারা সাময়িকভাবে আনন্দ পেলেও কখনোই প্রতিরোধের পতাকাকে মাটিতে নামিয়ে আনতে পারবে না।
- বৈধ প্রতিশোধের দাবি: তিনি জোর দিয়ে বলেন, খামেনিসহ প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রক্তের সুনির্দিষ্ট প্রতিশোধ নেওয়া এবং এই অপরাধের পেছনের মূল কুশীলবদের কঠোর শাস্তি দেওয়া ইরানের জন্য একটি চূড়ান্ত, সম্পূর্ণ আইনি, বৈধ এবং অবিস্মরণীয় দাবি হিসেবে বহাল থাকবে।
দাফন সম্পন্ন হতেই আইআরজিসির রণহুংকার
উল্লেখ্য, মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার দীর্ঘ চার মাস পর, গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) তাঁর জন্মভূমি মাশহাদ নগরীতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করা হয়। ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও মাশহাদের রাস্তায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে খামেনির দাফন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই আইআরজিসি প্রধানের কাছ থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার তীব্রতা বাড়ানোর এবং এই কঠোর প্রতিশোধের সরাসরি বার্তাটি প্রকাশ্যে এলো, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বেশি উসকে দিচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।



















