বৃহস্পতিবার , ৯ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত খাগড়াছড়ি: সড়কে যান চলাচল বন্ধ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ৯, ২০২৬ ৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

টানা কয়েকদিনের অতি ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা প্রলয়ঙ্করী পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ির প্রধান নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে. উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মাইনী ও চেঙ্গী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে. বন্যার পানি খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরুং অংশ এবং দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী এলাকায় কোমরসমান উচ্চতায় উঠে যাওয়ায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে. এছাড়া দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী, বাঘাইহাট বাজার ও মাচালং বাজারসংলগ্ন সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় পর্যটন নগরী সাজেক ভ্যালির সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে. এর ফলে সাজেক ভ্যালিতে বেড়াতে আসা প্রায় সাড়ে চারশত পর্যটক বর্তমানে সেখানে অবরুদ্ধ বা আটকে পড়েছেন.

দীঘিনালা ও লংগদু সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি

দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, মাইনী নদীর উপচে পড়া পানিতে মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার স্টিল সেতুসহ সড়কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে. বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুলতলা এলাকার প্রধান সড়কগুলো প্লাবিত হওয়ায় গত মঙ্গলবার বিকেল থেকেই দীঘিনালার সঙ্গে রাঙামাটির লংগদু ও বাঘাইছড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে রয়েছে. দূরপাল্লার সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় যেমন পর্যটকেরা বিপাকে পড়েছেন, তেমনি স্থানীয় হাজার হাজার বাসিন্দা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে.

দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের জরুরি প্রস্তুতি

প্রাকৃতিক এই বড় বিপর্যয় ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ জানিয়েছেন যে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিম গঠন করা হয়েছে. ইতোমধ্যে মেরুং রাজাবাড়িসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া ২৫টিরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার, রান্না করা খাদ্য ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে. স্থানীয় সকল জনপ্রতিনিধিকে স্ব-স্ব ইউনিয়নের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে. যেকোনো জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য বিশেষ মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক সদস্যদের হাই-অ্যালার্টে রাখা হয়েছে.

পাহাড়ধসের ঝুঁকি ও জেলা প্রশাসনের সতর্কবার্তা

টানা ভারী বর্ষণের ফলে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের সিন্দুকছড়ি এলাকা এবং গুইমারা ও রামগড় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে, যা সড়ক যোগাযোগকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে. কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় নতুন করে ধসের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে. খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় পুরো জেলায় মোট ১৩৫টি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে. এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও জরুরি ওষুধপত্র মজুত রাখা হয়েছে. পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে অনতিবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় এলাকায় মাইকিং ও বারবার জোরালো আহ্বান জানানো হচ্ছে.

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত