টানা অতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের কারণে চট্টগ্রামের ডুবে যাওয়া রেললাইন পরিদর্শন শেষে এক দূরদর্শী মহাপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ. তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও আকস্মিক বন্যার হাত থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৭ কিলোমিটার রেলপথকে ভবিষ্যতে আরও ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার. আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত পানিতে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত থাকা রেললাইন সরজমিনে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন. প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এই বিশাল উন্নয়ন কাজের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দরপত্র (Tender) প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া হয়েছে. পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ.
৪৫ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিতে বন্ধ ৪ জোড়া ট্রেন, তথ্যের ম্যাপিং করছে রেলওয়ে
মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে গত কয়েকদিন ধরে চলা অবিশ্বাস্য বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর থেকে জানালিহাট সেকশনের প্রায় চার কিলোমিটার রেললাইন বর্তমানে বিপজ্জনকভাবে পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে. এই ট্র্যাকটি ডুবে যাওয়ার কারণে গত মঙ্গলবার দুপুর থেকেই বহুল আকাঙ্ক্ষিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যার ফলে এই রুটে নিয়মিত যাতায়াত করা দৈনিক চার জোড়া ট্রেনের হাজার হাজার যাত্রী চরম বিপাকে পড়েছেন.
| খাতের বিবরণ | বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা |
| ক্ষতিগ্রস্ত সেকশন | ষোলোশহর থেকে জানালিহাট পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার রেললাইন. |
| বর্তমান অবস্থা | মঙ্গলবার দুপুর থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ. |
| বৃষ্টির রেকর্ড | চট্টগ্রামে গত ৪৫ বছরের মধ্যে হওয়া সর্বোচ্চ ও রেকর্ডসংখ্যক বৃষ্টিপাত. |
| ভবিষ্যৎ সুরক্ষা | ট্র্যাক ৫ ফুট উঁচু করা হলে ৩ ফুট পর্যন্ত বন্যা বা জোয়ারের পানিতেও ট্রেন সচল থাকবে. |
প্রতিমন্ত্রী রেলপথ নির্মাণে কোনো ধরণের কারিগরি বা প্রকৌশলগত ত্রুটির দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, “৪৫ বছর আগে চট্টগ্রামে এই রকম প্রলয়ঙ্করী বৃষ্টি হয়েছিল. আমরা এখন সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে রেকর্ড রাখছি যে এই অতিবৃষ্টিতে রেললাইনের ঠিক কোথায় কতটুকু পানি জমছে—কোথাও দুই ফুট, আবার কোথাও তিন ফুট. এই রিয়েল-টাইম ডেটা বা তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে যাতে করে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই মহাপরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করা যায়.”
যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই ট্রেন বন্ধ, মিলবে শতভাগ রিফান্ড
রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয় এড়াতে এবং সাধারণ যাত্রীদের সর্বোচ্চ জানমালের নিরাপত্তার কথা চরমভাবে বিবেচনা করেই এই রুটে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে. কেননা, পানির নিচে সিগন্যালিং ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কোমরসমান পানির মধ্য দিয়ে ট্রেন চলাচল করলে বড় ধরণের লাইনচ্যুতি বা দুর্ঘটনার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে.
প্রতিমন্ত্রী আটকে পড়া এবং দুর্ভোগে পড়া পর্যটকদের আশ্বস্ত করে বলেন, আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যেসব সম্মানিত যাত্রী অগ্রিম টিকিট কেটেও তাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে বা কক্সবাজারে ভ্রমণ করতে পারেননি, তাদের কাউন্টার থেকে কোনো প্রকার কর্তন ছাড়াই টিকিটের শতভাগ অর্থ (Refund) ফেরত দেওয়া হবে. পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই রেলওয়ে কর্মীরা লাইন পরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করবেন বলেও তিনি জানান.


















