বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন কারাবন্দিরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা ৫ হাজার ৬৯০ জন বন্দি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪০০-এর বেশি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিও রয়েছেন, যাদের আপিল প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান।
ভোটগ্রহণের বিস্তারিত তথ্য:
- ভোটের সময়সূচি: গত ৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত কারাগারগুলোতে বিশেষ বুথ স্থাপনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি থাকায় বিরতি দিয়ে ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে।
- ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের অংশগ্রহণ: আইন অনুযায়ী, যাদের চূড়ান্ত সাজা কার্যকর হয়নি এবং আপিল চলমান, এমন ৪০০ জন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
- রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ: ভোটারদের তালিকায় ২২ জন সাবেক মন্ত্রী-এমপি এবং ৫ জন সাবেক সচিব রয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন। তবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ভোট দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় তার নাম নিবন্ধন করা হয়নি।
- নিবন্ধন প্রক্রিয়া: নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে আগ্রহী বন্দিদের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়। এরপর ইসি প্রতিটি ভোটারের জন্য আলাদা খামযুক্ত ব্যালট পেপার কারাগারে পাঠিয়েছে।
কারা অধিদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) জান্নাত-উল ফরহাদ জানিয়েছেন, কারাবন্দিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কারাগারগুলোতে একটি উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি মূল নির্বাচনের আগেই এই পোস্টাল ব্যালটগুলো সিলগালা করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।



















