ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক মেরুকরণ এমন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ সাধারণ নাগরিক এখন দেশের অভ্যন্তরে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত গৃহযুদ্ধ (Civil War) ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা করছেন। ইহুদি নীতি ও সমাজবিষয়ক খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠান জেউইশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউটের (JPPI) সাম্প্রতিক ‘ইসরায়েলি সোসাইটি ইনডেক্স’ শীর্ষক এক জনমত জরিপে এই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। নতুন এই সমীক্ষা অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া শতকরা ৭৯ ভাগ ইসরায়েলি নাগরিক মনে করেন যে, সামাজিক সংহতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের বিগত বছরটি অত্যন্ত ‘বাজে’ বা নেতিবাচক কেটেছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে দেশটির প্রায় ৪৯ শতাংশ মানুষ নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম হতাশা ও নৈরাশ্য প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের উচ্চ ঝুঁকি ও শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা শঙ্কা
জরিপের ফলাফলে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দেখা গেছে যে, অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৫২ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক স্পষ্ট বিশ্বাস করেন যে, দেশে অদূর ভবিষ্যতে আবারও একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ‘উচ্চ সম্ভাবনা’ বা ঝুঁকি রয়েছে। সাধারণ মানুষের একাংশের ধারণা, তীব্র আদর্শিক দূরত্বের কারণে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিংবা অন্য কোনো শীর্ষস্থানীয় জাতীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা আইনপ্রণেতাকে এই রাজনৈতিক সহিংসতার মূল লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) করা হতে পারে। মূলত সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্ব, বিচারিক সংস্কার এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ আইনি ও সামরিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলের সাথে বিচার বিভাগের যে বিরোধ, তা সমাজকে তৃণমূল পর্যায়ে চরম সহিংস করে তুলছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।
সমাজ ব্যবস্থায় মেরুকরণ ও ইয়েদিদিয়া স্টার্নের সতর্কতা
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অধ্যাপক ইয়েদিদিয়া স্টার্ন ইসরায়েলের বর্তমান এই মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে গিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলি সমাজ ব্যবস্থা একই সাথে বাহ্যিক শত্রুর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা ও যুদ্ধকালীন আশাবাদ প্রদর্শন করলেও, এটি বর্তমানে ভেতর থেকে গভীরভাবে বিভক্ত, ক্ষুব্ধ এবং মেরুকৃত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, ইসরায়েলি জনগণ এখন কোনো বাহ্যিক হুমকির চেয়েও এই মারাত্মক অভ্যন্তরীণ ফাটল, পারস্পরিক রাজনৈতিক দূরত্ব এবং সামাজিক অবিশ্বাসকেই তাদের দেশের এক নম্বর ও প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করছে।
ইয়েদিদিয়া স্টার্ন আরও উল্লেখ করেছেন যে, দেশের নাগরিকদের মধ্যে এই হারিয়ে যাওয়া পারস্পরিক সংহতি, দেশাত্মবোধক একতা এবং রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে অহংকার ভুলে আলোচনায় বসতে হবে। একই সঙ্গে সমাজকে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে একটি সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর জাতীয় কর্মপরিকল্পনা এবং নতুন সামাজিক চুক্তি গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন এই নীতি গবেষক।
সূত্র: আল জাজিরা


















