জ্বালানি সংকটের জন্য সরকারের তদারকির অভাব এবং রাজনৈতিক সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল, ২০২৬) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব; উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ আয়োজিত এই সেমিনারে তাঁর বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন যে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা সরকারিভাবে বলা হলেও সাধারণ মানুষ তার সুফল পাচ্ছে না।
- খোলাবাজারে উচ্চমূল্য: তিনি বলেন, পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না, অথচ রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের আশীর্বাদে খোলাবাজারে অনেক বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে।
- মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা: সংসদে সরকারের মন্ত্রীদের দেওয়া বক্তব্যের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “সংসদে যখন কোনো মন্ত্রী বক্তব্য দেন, মনে হয় তেলের ওপর বাংলাদেশ ভাসছে। অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।”
২. কৃষিতে সংকটের প্রভাব
জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের কৃষি খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
- সেচ ও উৎপাদন: ডিজেলের অভাবে সেচ পাম্পগুলো চালানো যাচ্ছে না, যার ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
- ব্যয় বৃদ্ধি: খোলাবাজার থেকে চড়া দামে জ্বালানি কিনে চাষাবাদ করতে গিয়ে কৃষকরা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন।
৩. সরকারের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন
তিনি বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ‘অসৎ চোর-চোট্টা’ মানুষদের দায়ী করে বলেন, সরকারের কঠোর তদারকি না থাকায় এই অসাধু চক্রটি সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
৪. বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট
আজকের এই সেমিনারে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন:
- তেলের দামের অস্থিরতা: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১৫০ ডলার স্পর্শ করার পূর্বাভাস দিয়েছে জেপি মরগান।
- সয়াবিন তেলের সংকট: দেশে ভোজ্যতেলের বাজারেও সিন্ডিকেটের কারণে অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং দাম বাড়ানোর চাপ দিচ্ছে মিলমালিকরা।
- সংসদ অধিবেশন: ছুটির দিনেও সংসদ অধিবেশন চলছে এবং সেখানে অর্থমন্ত্রী বিগত সরকারের দুর্নীতির কারণে অর্থনীতি ধ্বংস হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন দ্রুত এই ‘রাজনৈতিক সিন্ডিকেট’ ভেঙে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয় এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়।



















