তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় (মুসল্লাহ) আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) গভীর শোকের মধ্য দিয়ে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি বিশ্বনেতা ও বিদেশি অতিথিরা শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। তবে খামেনির পাশাপাশি শ্রদ্ধা নিবেদন কক্ষে রাখা ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো আরও চারটি কফিন বিশ্ববাসীকে আরও বেশি আবেগাপ্লুত ও স্তব্ধ করে দিয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কফিনগুলো খামেনির পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের, যারা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের সেই একই যৌথ বিমান হামলায় নেতার সঙ্গেই নিহত হয়েছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট ও হৃদয়বিদারক কফিনটি হচ্ছে খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান বা নাতনির।
হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের সদস্যবৃন্দ
শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে কফিনগুলো জনসমক্ষে প্রদর্শনের পর নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। খামেনির মরদেহের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাখা অপর চারটি কফিনে রয়েছেন:
- সৈয়দা বুশরা হোসেইনি খামেনি: আয়াতুল্লাহ খামেনির সবচেয়ে বড় মেয়ে।
- মেসবাহ উল হুদা বাঘেরি: আয়াতুল্লাহ খামেনির বড় মেয়ের জামাই।
- জাহরা হাদ্দাদ আদেল: খামেনির ছেলের বউ এবং বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির স্ত্রী।
- জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানি: আয়াতুল্লাহ খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সী অবুঝ নাতনি, যার কফিনটি সবার মাঝে তীব্র শোকের আবহ তৈরি করেছে।
শোক ও তীব্র নিন্দার ঝড়
একই হামলায় সাবেক সুপ্রিম লিডারের সঙ্গে তাঁর মেয়ে, ছেলের বউ, জামাই এবং ১৪ মাসের নিষ্পাপ শিশু নাতনি নিহত হওয়ার এই তথ্য সামনে আসায় ইরানজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। আজ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন দেশের মুসলিম পণ্ডিত ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা নিষ্পাপ শিশুর কফিন দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবারের এই সদস্যদেরও আগামী ৯ জুলাই মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা (আ.) মাজারে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গেই দাফন করা হবে। এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইরান যেকোনো মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলি ঘাঁটিতে বড় ধরনের সামরিক প্রতিশোধ নেবে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: সিএনএন


















