চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নতুন রেকর্ড গড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এখানে মোট ৫ হাজার ১৯ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এটি টার্মিনালের ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ কনটেইনার ওঠানো-নামানোর রেকর্ড।
এর মধ্যে আমদানি কনটেইনার ছিল ২ হাজার ১০১ টিইইউএস এবং রপ্তানি কনটেইনার ছিল ২ হাজার ৯১৮ টিইইউএস। এ ধরনের সাফল্য বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দায়িত্ব নেওয়ার পর গতি বেড়েছে
গত ৭ জুলাই থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি-২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর বার্থের অপারেটরের দায়িত্বভার গ্রহণ করে। এর আগে বন্দরের এই অংশ বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে ব্যাপক গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
শুধু আগস্ট মাসের প্রথম ২৮ দিনেই (১–২৮ আগস্ট) টার্মিনালে মোট ১ লাখ ৯ হাজার ২১৭ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন হ্যান্ডলিং হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৯০৩ টিইইউএস, যা পূর্বের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
তুলনামূলক চিত্র
সিডিডিএল দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ৪৯ দিনে (৭ জুলাই থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত) টার্মিনালে মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ টিইইউএস হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। একই সময়ের আগে (সিডিডিএল দায়িত্ব নেওয়ার পূর্ববর্তী ৪৯ দিনে) হ্যান্ডলিং হয়েছিল মাত্র ১ লাখ ১৯ হাজার ২৭৬ টিইইউএস।
অর্থাৎ প্রায় দেড় মাসে অতিরিক্ত ৫৫ হাজার ৬৫৫ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা প্রবৃদ্ধির একটি বড় সূচক।
দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির প্রভাব
সিডিডিএল সূত্র জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থাপনায় জাহাজ পয়েন্ট, ডেলিভারি পয়েন্ট, অ্যাপ্রাইজমেন্ট পয়েন্ট, সিঅ্যান্ডএফ শেড ও গেটসমূহে কর্মকর্তা ও সদস্যরা দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রদর্শন করছেন। এছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, সমন্বিত শিডিউল ম্যানেজমেন্ট এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের কারণে হ্যান্ডলিংয়ের গতি বেড়েছে।
এতে বন্দরে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় (vessel waiting time) কমেছে, ডেলিভারি দ্রুত হচ্ছে এবং আমদানি-রপ্তানিকারকদের ব্যবসায়িক খরচও কমছে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ বহন করে। ফলে এখানে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির অর্থ হলো, দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে গতি এবং বৈদেশিক আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি। বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ সময়সীমা নির্ভর রপ্তানি খাতে এ ধরনের দক্ষতা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেবে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের এক কর্মকর্তা বলেন, “একদিনে রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিং কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি বাংলাদেশের বাণিজ্য দক্ষতার প্রতীক। এখন আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এই সাফল্যকে টেকসই করা।”
আগামীর চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের এ সাফল্য দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখতে হলে—
- দক্ষ জনবল ধরে রাখা,
- আধুনিক ক্রেন ও যন্ত্রপাতি সংযোজন,
- বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন,
- সড়ক-রেল যোগাযোগের সমন্বয় জোরদার করা
অত্যাবশ্যক।
তারা মনে করছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায়ও একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।



















