চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শেষ ম্যাচেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তাঁর চোখধাঁধানো জোড়া গোলের ওপর ভর করে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে অনায়াসে হারিয়েছে সেলেসাওরা। এই দাপুটে জয়ের ফলে কোচ কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব (শেষ ১৬) নিশ্চিত করেছে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে আরও এক গোল দিয়ে স্কটিশদের ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়।
প্রথমার্ধে ভিনির জোড়া গোল ও ভিএআর বিতর্ক
ম্যাচের শুরু থেকেই স্কটল্যান্ডের ওপর চেপে বসে ব্রাজিল। খেলার মাত্র ৮ মিনিটের মাথায় তরুণ উইঙ্গার রায়ানের প্রেসিংয়ের মুখে পড়ে নড়বড়ে হয়ে যান স্কটিশ সেন্টার-ব্যাক স্কট ম্যাকেনা। বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হওয়া ম্যাকেনার কাছ থেকে সুযোগসন্ধানী ভিনিসিয়ুস বল কেড়ে নেন এবং স্কটিশ গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে কাটিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান। এরপর ২৫ মিনিটে ভিনিসিয়ুস আবারও বল জালে জড়ালেও বিল্ড-আপের সময় স্কটিশ ডিফেন্ডারকে ফাউল করার অপরাধে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সহায়তায় রেফারি গোলটি বাতিল করেন। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে নিজের দ্বিতীয় ও চলতি বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত চতুর্থ গোলটি করেন ভিনি।
কুনহার গোল ও ৯৮১ দিন পর নেইমারের প্রত্যাবর্তন
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৬০ মিনিটে আবারও উল্লাসে মাতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ব্রুনো গিমারাইসের চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে স্কটল্যান্ডের জালে বল জড়ান স্ট্রাইকার ম্যাথিউস কুনহা। আসরে এটি কুনহার তৃতীয় গোল। তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় রোমাঞ্চটি আসে ৭৫ মিনিটে, যখন দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কুনহার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘ ২ বছর ৮ মাস বা ৯৮১ দিন পর চোট কাটিয়ে ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে মাঠে ফিরলেন এই সুপারস্টার। নেইমারের মাঠে নামার পর ব্রাজিলের আক্রমণভাগ আরও সচল হলেও ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দল।
এই বড় জয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’-তে মরক্কোর সমান ৭ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষস্থান (গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন) নিশ্চিত করল ব্রাজিল।



















