মঙ্গলবার , ৯ জুন ২০২৬ | ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ঢাকার আতঙ্ক ১৩৮৭ ছিনতাইকারী

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ৯, ২০২৬ ২:৩২ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

ভোরের ঢাকা কিংবা রাতের ঢাকা নয়, প্রকাশ্য দিবালোকের দিনের ঢাকাও এখন ছিনতাইয়ের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর হয়ে উঠেছে. ব্যাংকপাড়া, বাসার গলি, মার্কেট কিংবা বিনোদনকেন্দ্র— সব জায়গায় সুযোগ পেলেই ছিনতাইকারীরা সাধারণ মানুষের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে এবং বাধা দিলে গুলি করতেও দ্বিধা করছে না. এতে রাস্তায় বের হলেই নগরবাসীকে এক অজানা ছিনতাইয়ের আতঙ্কে পথ চলতে হচ্ছে. সম্প্রতি মতিঝিলের শাপলা চত্বরে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে এক ব্যবসায়ীর টাকা ও ডলার ছিনিয়ে নেওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসলেও, ঘটনার কয়েক দিন পরেও এর কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী. এই ঘটনার পর ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে রাজধানীর প্রতিটি থানায় কঠোর বার্তা দিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানোর পাশাপাশি তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে. একই সঙ্গে জামিনে থাকা দাগি আসামিদের তথ্য সংগ্রহ করে কেউ নতুন করে অপরাধে জড়ালে তাকে আইনের আওতায় আনতে বলা হয়েছে.

ছিনতাইকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতামত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, পুলিশ যে হারে গ্রেপ্তার ও মামলা দিচ্ছে তাতে ছিনতাই কমে যাওয়ার কথা. কিন্তু মামলার বিবরণীতে অপরাধীদের জামিন পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার মতো প্রক্রিয়াগত টালবাহানার কারণে জ্যামিতিক হারে ছিনতাইকারী ও ছিনতাইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে. ছিনতাইকারীরা এখন বিভীষিকাময় চক্রের সদস্য হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং অস্ত্র হাতে মানুষের সর্বস্ব লুট করছে, তাই এই মামলা ও জামিনের প্রক্রিয়াগত টালবাহানা বন্ধ না হলে ছিনতাইকারীদের লাগাম টানা যাবে না.

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকার আটটি বিভাগে ১ হাজার ৩৮৭ জন তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে, যা ছয় মাস আগের (৯৮৯ জন) তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি. বিভাগভিত্তিক সক্রিয় ছিনতাইকারীদের সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

  • রমনা বিভাগ: ১৫২ জন দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে.
  • লালবাগ বিভাগ: ১৫৯ জন ছিনতাইকারী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত.
  • ওয়ারী বিভাগ: ৩০৮ জন ছিনতাইকারী নিয়ে এই বিভাগে অপরাধের প্রকোপ বেশি.
  • মতিঝিল বিভাগ: ১৬৮ জন তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী তৎপর রয়েছে.
  • তেজগাঁও বিভাগ: ২৪০ জন দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে.
  • মিরপুর বিভাগ: ৫৩ জন তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী রয়েছে.
  • গুলশান বিভাগ: ৬৭ জন ছিনতাইকারী সক্রিয়ভাবে তৎপর.
  • উত্তরা বিভাগ: ২৪০ জন দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী অপরাধের সাথে জড়িত.

এই তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীদের ৮০ শতাংশই এক থেকে সাতটি মামলার আসামি এবং একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও ছিনতাইয়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে. এছাড়া গোয়েন্দা তথ্য মতে, এর বাইরেও হাজারের বেশি ভাসমান কিশোর ও মাদকাসক্ত ছিনতাইকারী রাজধানীতে সক্রিয় রয়েছে, যারা সুযোগ পেলেই ছুরি, চাপাতি অথবা সামুরাই নিয়ে ছিনতাই করছে.

হটস্পটগুলোতে অপরাধের পরিসংখ্যান ও পুলিশের মামলা নিতে অনীহা

রাজধানীতে ৩ শতাধিক ছিনতাই স্পট থাকলেও এর মধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট রয়েছে ৫৫টি, যেখানে সবচেয়ে বেশি অপরাধ ঘটছে. ডিএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন মাসে রাজধানীতে ৮৩টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে এপ্রিল মাসে ঘটেছে ২৫টি. এপ্রিলে তেজগাঁওয়ে ৯টি, মতিঝিল, গুলশান ও ওয়ারীতে ৪টি করে এবং রমনা ও লালবাগে ২টি করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে. তবে অনেক ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়, কারণ মানুষ মোবাইল বা মানিব্যাগ খোয়ালে ঝামেলার ভয়ে কেবল হারানো জিডি দায়ের করেন.

শীর্ষ মহলের নির্দেশনা সত্ত্বেও থানায় মামলা নিতে পুলিশের আগের অনীহার সংস্কৃতি এখনো বদলায়নি. গত ৯ এপ্রিল মতিঝিলে জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে পিস্তল ঠেকিয়ে মো. মামুনুর রশিদ নামে এক ব্যাংকারের ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা ছিনতাই করা হয়. ঘটনার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের টহল টিমের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হলেও তারা ছিনতাইকারীদের পিছু না নিয়ে ভুক্তভোগীকে থানায় যেতে বলে. পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজসহ থানায় মামলা করতে গেলে এক মাস ধরে নানা টালবাহানা ও কালক্ষেপণ করা হয়. একপর্যায়ে মতিঝিল বিভাগের ডিসির সুপারিশে ৫ মে মামলা নেওয়া হলেও এজাহার লেখা হয় ওসির ইচ্ছা অনুযায়ী. হয়রানির ভয়ে ভুক্তভোগী মামলায় অস্ত্র ঠেকানোর কথা উল্লেখ করতে পারেননি, কারণ পুলিশ সেটা খেলনা নাকি আসল পিস্তল— তা নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলে মামলা আটকে দিচ্ছিল. এ বিষয়ে মতিঝিল থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার নিজের ভুলত্রুটি থাকতে পারে স্বীকার করে বলেন, তারা বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন.

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ছিনতাইসহ যেকোনো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে. তবে শতভাগ অপরাধীকে একসাথে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় না এবং গ্রেপ্তারের বাইরে থাকা অপরাধীরা দুয়েকটি ঘটনা ঘটিয়ে বসে. তাছাড়া যারা গ্রেপ্তার হয়, তারা কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে. তিনি আশ্বাস দেন যে, যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সক্রিয় ছিনতাইকারীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি জামিনে থাকা অপরাধীদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ডিএমপির সব থানায় কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে.

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত