সৌদি আরবে গত ৩০ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত এক সপ্তাহব্যাপী পরিচালিত বিশেষ অভিযানে আবাসিক, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট ১১ হাজার ১৭৫ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১০ মে, ২০২৬) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং শ্রমবাজারকে সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান ও কারণ: মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৬,১৫৩ জন আবাসিক আইন, ৩,৬১৯ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ১,৪০৩ জন শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টাকালে ১,৪১১ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ৬২ শতাংশ ইথিওপিয়ান, ৩৬ শতাংশ ইয়েমেনি এবং ২ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। অন্যদিকে, অবৈধ উপায়ে দেশ ত্যাগের চেষ্টাকালে আরও ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
আইনি ব্যবস্থা ও প্রত্যাবাসন: ইতোমধ্যেই আটককৃতদের মধ্য থেকে ১১,২৭২ জন লঙ্ঘনকারীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় ২৮,৬৭৮ জন অভিবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১৯,৪৪১ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথিপত্র সংগ্রহের জন্য তাঁদের দেশের কূটনৈতিক মিশনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া অভিযানে অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় বা কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার অপরাধে ১৯ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কঠোর হুঁশিয়ারি: সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের কোনো ধরনের সহায়তা (পরিবহন, আশ্রয় বা কর্মসংস্থান) করা একটি গুরুতর অপরাধ। এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি টাকা) পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও বিধান রয়েছে। মক্কা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের নাগরিকদের যেকোনো অনিয়মের তথ্য ৯১১ নম্বরে এবং অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ৯৯৯ বা ৯৯৬ নম্বরে কল করে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র : গালফ নিউজ


















