দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পদে কোনো পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন ঝানু রাজনীতিককে বেছে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদী আগামী জুনের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় তাঁর দায়িত্ব বুঝে নিতে আসছেন। ২০২২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা শিগগিরই বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন; তাঁকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক প্রোফাইল ৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের রাজনীতিতে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও সুপরিচিত মুখ। তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
- কেন্দ্রীয় মন্ত্রী: তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রতিনিধি হিসেবে রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- সংসদীয় অভিজ্ঞতা: তিনি লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেরই সদস্য ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভা এবং গুজরাট থেকে রাজ্যসভায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
- দল পরিবর্তন: ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দেন।
নিয়োগের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সম্পর্কের এই ‘রিসেট’ বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় একজন ঝানু রাজনীতিককে ঢাকায় পাঠানো নয়াদিল্লির একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। দীনেশ ত্রিবেদীর পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব দুই দেশের অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো সমাধানে এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



















