বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত, বিশেষ করে সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার কোনো প্রকার অংশীজন বা বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়াই একযোগে প্রায় ৩,৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩১টি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে দেয়। ‘দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ আইন’ বা কুইক রেন্টাল আইনের অধীনে বরাদ্দ হওয়ার অজুহাতে এই প্রকল্পগুলো বাতিল করা হলেও, এর ফলে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি ও আস্থার সংকট খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অনেক দেশি-বিদেশি কোম্পানি ইতিমধ্যে জমি ক্রয়, সম্ভাব্যতা যাচাই (Fizibility Study) এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের পেছনে কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল। এইচডিএফসি সিন পাওয়ার লিমিটেড এবং এক্সপোটেক রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা জানিয়েছেন, এই গণবাতিলের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা গেছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব হিসেবে দেখা গেছে যে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ডাকা আন্তর্জাতিক দরপত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো কাঙ্ক্ষিত সাড়া দেয়নি। এমনকি উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রুল থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করায় খাতটি দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যখন আগামী ৫ বছরে ৫,০০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তখন অতীতের এই বিনিয়োগ সংকট কাটিয়ে ওঠা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আজই বেইজিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক করছেন, যেখানে জ্বালানি খাতের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দেশীয় ব্যাংকগুলোর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনা এবং একটি স্থিতিশীল নীতিমালার কোনো বিকল্প নেই।



















