মঙ্গলবার , ৫ মে ২০২৬ | ৩রা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের সম্ভাব্য দুর্বলতার ৮টি নেপথ্য কারণ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
মে ৫, ২০২৬ ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে কিছু মৌলিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ২০২১ সালে বিশাল জয় নিয়ে ফিরলেও পরবর্তী পাঁচ বছরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে, যা দলটিকে দুর্বল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নিচে এই আটটি প্রধান কারণ আলোচনা করা হলো:


১. দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতার বিরোধিতা (Anti-Incumbency)

টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার ফলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনমানসে একটি স্বাভাবিক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের ‘সিন্ডিকেট’ রাজ, জনপ্রতিনিধিদের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বণ্টনে বৈষম্য এই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাকে আরও উসকে দিয়েছে। ২০২১ সালে সংশোধনমূলক পদক্ষেপের সুযোগ থাকলেও তা না হওয়ায় এই অসন্তোষ এখন আরও ঘনীভূত।

২. আর্থিক দুর্নীতির নেতিবাচক প্রভাব

তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনামলে চিটফান্ড, নারদকাণ্ড থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ, রেশন ও কয়লা পাচারের মতো গুচ্ছ গুচ্ছ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া কোটি কোটি টাকার ছবি মমতার ‘স্বচ্ছ’ ভাবমূর্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বা মানিক ভট্টাচার্যের মতো নেতাদের জেল হাজতে থাকা দলের জন্য বড় বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৩. ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR)

নির্বাচন কমিশনের নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে অস্তিত্বহীন বা ‘ভূতুড়ে’ ভোটারদের নাম বাদ গেছে। এর ফলে অতীতে যে প্রক্রিয়ায় ‘ভুয়া ভোট’ দেওয়ার সুযোগ থাকত, তা বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটারদের তালিকার অসঙ্গতি তৃণমূলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তাদের দীর্ঘদিনের নিশ্চিত ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলতে পারে।

৪. তোষণের অভিযোগ ও সাম্প্রদায়িক সমীকরণ

বিজেপির পক্ষ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লাগাতার ‘সাম্প্রদায়িক তোষণ’-এর অভিযোগ তোলা হয়েছে। মুর্শিদাবাদে হিন্দু হত্যাকাণ্ড এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটকে ব্যবহার করে বিজেপি-আরএসএস প্রচার করেছে যে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে পশ্চিমবঙ্গ অনিরাপদ। এই প্রচার সাধারণ হিন্দুদের একাংশের মধ্যে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।


৫. প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো

নির্বাচন কমিশন কঠোরভাবে রাজ্যের প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেওয়ায় তৃণমূলের চিরাচরিত ‘প্রভাব’ খর্ব হয়েছে। ডি we জি, কমিশনার বা বিডিও স্তরে ব্যাপক রদবদলের ফলে পুলিশ ও প্রশাসন শাসকদলের কথা মতো কাজ করার সুযোগ হারিয়েছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও আক্ষেপ করে বলেছেন যে প্রশাসনিক কর্তারা তাঁর ফোন ধরছেন না, যা প্রশাসনিক রাশ আলগা হওয়ারই প্রমাণ।

৬. সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা

ভোটের অনেক আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং তাদের নিয়মিত টহলদারি তৃণমূলের পেশিশক্তির রাজনীতিকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। অতীতে বিরোধীদের দমিয়ে রাখার যে সংস্কৃতি ছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘রুদ্রমূর্তি’র সামনে তা এবার কার্যকর হয়নি। বাহিনী ভোটারদের অভয় দেওয়ায় তাঁরা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সাহস পেয়েছেন।

৭. নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ইতিহাসে এবার রেকর্ড ভেঙে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ছাপ্পা ভোট, বুথ জ্যাম বা বিরোধী ভোটারদের ভয় দেখানোর পথ বন্ধ হওয়ায় শাসকদলের চিরাচরিত ‘ভোটদখল’ কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। ফলে প্রকৃত ভোটারদের রায়ে বিরোধী পক্ষ বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

৮. আইপ্যাক (I-PAC) কাণ্ড

তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত সংস্থা আইপ্যাক-এর কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হওয়া এবং তাদের এক পরিচালককে ইডি (ED) গ্রেপ্তার করায় দল বড় ধরনের সাংগঠনিক সংকটে পড়েছে। আইপ্যাকের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতার কারণে দলের নিচুতলার কর্মীদের সক্রিয়তা ও স্বকীয়তা কমে গিয়েছিল। ভোটের মুখে এই পেশাদার সংস্থাটির নিষ্ক্রিয়তা তৃণমূলের প্রচার কৌশলকে দুর্বল করে দিয়েছে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত