ইরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে যুদ্ধ আবারও শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে যে কোনো ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপের’ জবাব দিতে নিজেদের পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।
Fars News Agency-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক সদর দপ্তরের উপপ্রধান মোহাম্মদ জাফর আসাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়—এটি ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। তার দাবি, ওয়াশিংটনের অবস্থান অনেকটাই কৌশলগত ও ‘মিডিয়া-নির্ভর’।
এদিকে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যানজান প্রদেশে অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে বিস্ফোরণে তাদের ১৪ সদস্য নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এই অভিযান চলছিল বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে সম্ভাব্য নতুন আলোচনার জন্য ইরানের তিন ধাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন Donald Trump। Al Jazeera জানায়, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এ প্রস্তাবে সমঝোতার পথ খুলতে পারত, তবে বিস্তারিত প্রকাশ হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের দাবি-দাওয়ার মধ্যে বড় ধরনের ফারাক থাকায় আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে।
Reuters-এর খবরে বলা হয়, ইরানের প্রস্তাব কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারত এবং অবরোধ শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল—যা ওয়াশিংটন প্রত্যাখ্যান করেছে।
এরই মধ্যে আইআরজিসি ওই কৌশলগত জলপথে ‘নতুন নিয়ম’ ঘোষণা করেছে। আরব উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে তারা।
এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি।



















