বিগত সরকারগুলোর দীর্ঘস্থায়ী ব্যর্থতা এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে অবহেলার কারণেই বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঝটিকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
টিকাদানে ঘাটতির কারণ ও বর্তমান পদক্ষেপ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে টিকাদানে পিছিয়ে পড়ার কয়েকটি কারণ তুলে ধরেন:
- সচেতনতার অভাব: ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে দেশে হামের টিকা নিয়ে বড় ধরনের কোনো জাতীয় সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়নি।
- ছয় বছরের শূন্যতা: গত ছয় বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব এখন জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়ছে।
- দেশব্যাপী কর্মসূচি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছে। প্রথমে ৩০টি উপজেলায় শুরু হলেও গত ২০ তারিখ থেকে সারা দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা হয়েছে।
হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহার
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যসেবার মান এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। গণমাধ্যমে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহাম্মদ কবীরকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, জেলা প্রশাসক নূর মহল আশরাফী এবং পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলমসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সময়ের মধ্যে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনার এবং প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।



















