জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ব্যানারে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। আজ রবিবার (১২ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন।
সারজিস আলমের বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বিএনপি-আওয়ামী লীগ ‘অলিখিত সমঝোতা’র অভিযোগ
সারজিস আলম দাবি করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রধান দুটি দলের মধ্যে একটি গোপন সমঝোতা তৈরি হয়েছে।
- ভোটের সমীকরণ: তিনি অভিযোগ করেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য, বিএনপি আওয়ামী লীগের ভোটের মাধ্যমেই ক্ষমতায় এসেছে।” তাঁর মতে, শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী এখন দেশের বাইরে থেকে এই ধরনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
- আসামিদের জামিন: এই রাজনৈতিক সমীকরণের কারণেই জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী এবং খুনের মামলার অনেক দাগি আসামি বর্তমানে জামিন পেয়ে যাচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
২. প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও বিএনপির সমালোচনা
বিগত ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থার সাথে বর্তমানের তুলনা করে সারজিস আলম বলেন:
- জুলুমের পুনরাবৃত্তি: আওয়ামী লীগ যেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিরোধী দলের ওপর জুলুম চালিয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো সংস্কার না করে বরং নিজেদের মতো করে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
- অধ্যাদেশ বাতিল: এই কারণেই বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংস্কারমূলক অধ্যাদেশ বাতিল করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
- হুঁশিয়ারি: তিনি সতর্ক করে বলেন, “বিএনপি যদি মনে করে তারা বিরোধী দলের কবর খুঁড়বে এবং সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটবে, তবে সেই কবরে তাদের জায়গাই সবার আগে হবে।”
৩. শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রতি আহ্বান
আন্দোলনের মূল লক্ষ্য যেন বিচ্যুত না হয়, সেজন্য তিনি উপস্থিত সবার প্রতি কিছু অনুরোধ জানান:
- অবিভাজ্য থাকা: কোনো প্রলোভন বা কিছুর বিনিময়ে বিভাজিত হয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করার আহ্বান জানান তিনি।
- হুমকির প্রতিবাদ: বর্তমানে জামিনে মুক্ত হওয়া আসামিরা অনেক শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের হুমকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানান এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেন।
৪. নিরপেক্ষ অবস্থানের অঙ্গীকার
সারজিস আলম স্পষ্ট করে বলেন যে, শহীদ পরিবার ও যোদ্ধারা কোনো দলের ব্যানারে নয়, বরং জনগণের পক্ষে থাকবে। এমনকি তাঁর নিজের দল—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—যদি কোনো সময় গণ-আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে অবস্থান নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানান।
আজকের এই সভায় উপস্থিত অনেকেই শহীদদের বিচার নিশ্চিত করতে এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে আরও জোরালো পদক্ষেপের দাবি জানান।


















