ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ, ২০২৬) এক বিবৃতিতে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, কোনো সক্রিয় পারমাণবিক স্থাপনায় সামান্যতম ক্ষতিও একটি ভয়াবহ ‘তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনা’ ডেকে আনতে পারে। গ্রোসির মতে, এই ধরনের বিপর্যয়ের প্রভাব কেবল ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সীমান্ত ছাড়িয়ে বিশাল এক ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইএইএ মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ঘটনার মূল তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- হামলার সময় ও স্থান: গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের চত্বরে একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইরান এই ঘটনাকে ‘আমেরিকান-ইসরায়েলি শত্রুদের’ একটি পরিকল্পিত হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
- নিরাপত্তা ঝুঁকি: বুশেহর কেন্দ্রটি বর্তমানে সচল এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক জ্বালানি মজুত রয়েছে। যেকোনো যান্ত্রিক বা কাঠামোগত ক্ষতি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপর্যয়কর হতে পারে বলে জানিয়েছেন গ্রোসি।
- আইএইএ-র আহ্বান: সশস্ত্র সংঘাতের সময় পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংস্থাটির নির্ধারিত ‘সাতটি স্তম্ভ’ বা মূলনীতি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন গ্রোসি। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
- আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: ইরানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) কিংবা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে পারমাণবিক কেন্দ্রে এই সরাসরি আঘাত বিশ্বজুড়ে নতুন করে পারমাণবিক যুদ্ধের আতঙ্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



















