নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা ও ‘অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি এই গ্রেফতারকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের একটি ‘উদ্বেগজনক প্রবণতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
গত ১৫ ডিসেম্বর আনিস আলমগীরকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এবং আরও কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টকশোতে নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে প্রপাগান্ডা চালিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র করছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বক্তব্য:
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রেহাব মাহমুদ এক বিবৃতিতে বলেছেন:
“আনিস আলমগীরের গ্রেফতার একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার ধারাবাহিকতা। মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার না করে বরং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত নির্বাচনের আগে বাক-স্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের আগে একটি অধিকার-ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হলে রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সবার মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে।
মামলার বিবরণ ও আসামিদের তালিকা:
উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আনিস আলমগীরসহ আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিষিদ্ধ সংগঠনকে (আওয়ামী লীগ/ছাত্রলীগ) ফিরিয়ে আনার জন্য গুজব ছড়িয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:
আনিস আলমগীর: সাংবাদিক।
মেহের আফরোজ শাওন: জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নির্মাতা।
মারিয়া কিসপট্টা: ফ্যাশন মডেল।
ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ: উপস্থাপক।
আদালতে আনিস আলমগীরের বক্তব্য:
গত ১৫ ডিসেম্বর আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানির সময় আনিস আলমগীর বলেন, “আমি একজন সাংবাদিক। যারা ক্ষমতায় থাকে আমি তাদের প্রশ্ন করি। দুই দশক ধরে আমি এটাই করে আসছি। কারও কাছে মাথা নত করা আমার কাজ নয়।” আদালত শুনানি শেষে তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে ধানমন্ডির একটি জিম থেকে বের হওয়ার পর ডিবি পুলিশ আনিস আলমগীরকে হেফাজতে নেয়। পরদিন তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাদের প্রচারণার ফলে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা উৎসাহিত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র করছে।



















