মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের একটি অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন চারজন মার্কিন কর্মকর্তা। রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে তারা জানান—ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে চাপে ফেলতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
তবে এই অভিযানের সময়সীমা, পরিধি বা ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা—এসব নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং ওয়াশিংটন–কারাকাস উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে “কিছুই বাদ দেওয়া হচ্ছে না।” তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক প্রবেশ রুখতে প্রয়োজন হলে সব ধরনের ক্ষমতা ব্যবহার করতে প্রস্তুত ট্রাম্প।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ—মাদুরো অবৈধ মাদক সরবরাহে ভূমিকা রাখছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রে বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ। যদিও মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
কর্মকর্তাদের একজন জানান, বিবেচনায় থাকা বিকল্পের মধ্যে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথাও রয়েছে। ২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসা মাদুরো অভিযোগ করেছেন—ট্রাম্প তাঁকে সরাতে চান, তবে ভেনেজুয়েলাবাসী ও সামরিক বাহিনী এমন চেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি সিআইএ–কে ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতিও বাড়িয়েছে। মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সতর্ক করে বলেছে, ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় উড়তে গেলে ‘সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ তৈরি হতে পারে। সতর্কতার পর কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র আগামীকাল সোমবার ‘কার্টেল দে লস সোলেস’–কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগ—এই চক্র যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাঠায় এবং এতে মাদুরোর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে মাদুরো এ অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স



















