ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে ঢাকা ছাড়ার আগে ঘরবাড়ি ও মূল্যবান সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, ঈদের সময় অনেক বাসা ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় চুরি বা গ্রিল কাটা চক্রের তৎপরতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব পরিবার নিরাপত্তার পূর্বপ্রস্তুতি নেয় না, তারা অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এই ঝুঁকি কমাতে বাসার প্রধান দরজা, বারান্দা এবং বিশেষ করে রান্নাঘরের জানালা ও গ্রিলগুলো ভালোভাবে বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ তালার পাশাপাশি ডিজিটাল বা অতিরিক্ত চেইন লক ব্যবহার এবং ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল রাখার ওপর জোর দিয়েছে ডিএমপি।
বাসা ফাঁকা থাকার তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা অপরিচিত কারো কাছে প্রকাশ না করার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। অনেকেই ঈদযাত্রার ছবি বা টিকেট ফেসবুকে তাৎক্ষণিকভাবে শেয়ার করেন, যা অপরাধীদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করে। তাই ভ্রমণের ছবি বা লোকেশন ফিরে এসে শেয়ার করাই নিরাপদ। এছাড়া নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও প্রয়োজনীয় দলিলাদি ঘরে অরক্ষিত অবস্থায় না রেখে বিশ্বস্ত আত্মীয়ের কাছে বা ব্যাংকের লকারে রাখার কথা বলা হয়েছে। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, প্রয়োজনে নাগরিকরা তাদের মূল্যবান সামগ্রী নিকটস্থ থানায়ও জমা রাখতে পারবেন।
যাওয়ার আগে বাসার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ পরীক্ষা করে যাওয়া এবং রাতে বাসার আশেপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা জরুরি। পুলিশের মতে, দীর্ঘ ছুটিতে বাসা একেবারেই অন্ধকার ও নিস্তব্ধ থাকলে তা চোরদের আকৃষ্ট করে; তাই সম্ভব হলে টাইমার লাইট ব্যবহার করা বা বিশ্বস্ত কাউকে দিয়ে মাঝে মাঝে লাইট জ্বালানো-নেভানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ভবনের নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশ দিতে হবে যেন তারা অপরিচিত বা নতুন কোনো ডেলিভারি ম্যান ও মিস্ত্রিকে যাচাই ছাড়া প্রবেশ করতে না দেন। সর্বোপরি, বাসার তালা ভাঙা বা অপরিচিত কারো ঘোরাফেরার মতো কোনো সন্দেহজনক বিষয় নজরে এলে দ্রুত স্থানীয় থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।


















