বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ ২০২৬ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও চ্যালেঞ্জ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
মার্চ ১২, ২০২৬ ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার দীর্ঘ ১৭ মাস পর আজ ১২ মার্চ ২০২৬, বেলা ১১টায় শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এই অধিবেশনটি বেশ কিছু কারণে ব্যতিক্রমী; লুই আই কানের নকশা করা সংসদ ভবনটি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সংস্কার শেষে প্রথমবারের মতো অধিবেশনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের চেয়ারটি শূন্য থাকবে এবং একজন প্রবীণ সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অধিবেশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

দলীয় বিন্যাস ও আসন বিন্যাস ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি ২০৯টি আসন নিয়ে সরকারি দলের আসনে বসছে। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যারা এককভাবে ৬৮টি আসন লাভ করেছে। তাদের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে এনসিপি (৬টি আসন), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (২টি আসন) এবং খেলাফত মজলিস (১টি আসন) মিলিয়ে মোট ৭৭ জন সংসদ সদস্য নিয়ে বিরোধী জোট সংসদে শক্তিশালী অবস্থান জানান দিচ্ছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন এই বিন্যাসে সরকারি ও বিরোধী দল উভয় পক্ষ থেকেই গঠনমূলক আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

আইনি চ্যালেঞ্জ ও ১৩৩টি অধ্যাদেশ এই সংসদের প্রধানতম আইনি চ্যালেঞ্জ হলো অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকালে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন না করলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এই অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি ও বিরোধী—উভয় দলের প্রতিনিধিরা থাকবেন। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর ভবিষ্যৎ এই সংসদেই নির্ধারিত হবে।

ঐতিহাসিক শোক প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ অধিবেশনের প্রথম দিনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিশেষ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। তাঁদের ত্যাগ ও অবদানের ওপর আলোচনার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দেবেন। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে; তারা রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে উল্লেখ করে এই ভাষণের বিরোধিতা করেছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আগামী ১৫ মার্চ থেকে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও ঈদ বিরতি সংসদের বিজনেস অ্যাডভাইজারি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম দিনেই বেশ কিছু সংসদীয় কমিটি গঠন করা হতে পারে। ১৫ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপনের পর আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংসদ ১৩ দিনের জন্য মুলতবি হতে পারে। ঈদের ছুটি শেষে ২৯ মার্চ পুনরায় সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অধিবেশন এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ - অপরাধ