জামায়াতে ইসলামীর নাটকীয় শপথ গ্রহণ জাতীয় সংসদ ভবনে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) এক দীর্ঘ নাটকীয়তা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে শপথ গ্রহণ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জামায়াতের নির্বাচিত ৬৮ জন সংসদ সদস্যকে প্রথমে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান। এর ঠিক চার মিনিট পর, দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে তাঁরা পুনরায় ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে দ্বিতীয় দফা শপথ গ্রহণ করেন। বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করলেও জামায়াত শেষ পর্যন্ত দুটি শপথই গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ও রাজনৈতিক অবস্থান আজ সকালে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলে জামায়াতও কোনো শপথ নেবে না। দলটির অবস্থান ছিল যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার ছাড়া সংসদীয় যাত্রা অর্থহীন। তবে ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিক ও এনসিপি যখন শপথ বর্জনের ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে, তখন জামায়াত তাদের অবস্থানে পরিবর্তন আনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় সংকটের আশঙ্কা এবং সংসদের বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতেই জামায়াত এই ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংসদীয় মেরুকরণ ও আগামী পথ জামায়াতের এই শপথে অংশগ্রহণের ফলে ত্রয়োদশ সংসদ একটি বিচিত্র রূপ ধারণ করল। একদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সংসদ ও সংস্কার পরিষদ—উভয় ক্ষেত্রেই নিজেদের সম্পৃক্ত করল। এর ফলে আগামীতে সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক ও মতপার্থক্যের সম্ভাবনা তৈরি হলো। তবে জামায়াতের এই অংশগ্রহণ বিকেলের প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কিছুটা প্রশমিত করেছে।
শপথের চূড়ান্ত চিত্র (জামায়াতে ইসলামী):
- ১২:২৩ PM: সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ।
- ১২:২৭ PM: সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ।
- অবস্থান: সংস্কারের পক্ষে অনড় থেকে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ।


















