জাতীয় জাদুঘরের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি ফি
আগামীকালকের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির মাঝেই সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি নতুন প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে প্রবেশের জন্য যে ফি প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশিকে ১০০ টাকা এবং শিশুদের ৫০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হবে। বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরের প্রবেশমূল্য মাত্র ২০ টাকা। এই বিশাল ব্যবধান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিপ্লবের স্মৃতি সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিবর্তে চড়া মূল্য নির্ধারণ করা হলে সাধারণ দর্শনার্থীরা বিমুখ হতে পারেন।
বিদেশি ও সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য উচ্চমূল্য
শুধু দেশি নয়, বিদেশি পর্যটকদের জন্যও এই জাদুঘরের টিকিট মূল্য অনেক বেশি ধরা হয়েছে। প্রস্তাবিত ফি অনুযায়ী:
- সার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ৫০০ টাকা (জাতীয় জাদুঘরে ৩০০ টাকা)।
- অন্যান্য বিদেশি নাগরিক: ২,০০০ টাকা (জাতীয় জাদুঘরে ৫০০ টাকা)।সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেহেতু ১৩ নভেম্বর জারিকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী এটি একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ সংস্থা, তাই এর নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ এই মূল্য নির্ধারণ করেছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি গঠিত ১৫ সদস্যের পর্ষদ তাদের প্রথম সভায় এই ফির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।
এনসিপির আপত্তি ও ‘ফ্রি’ করে দেওয়ার দাবি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান অংশীদার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সহ-শিক্ষা সম্পাদক মাহাবুব আলম এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, অভ্যুত্থানের ইতিহাস সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে এই জাদুঘরটি পুরোপুরি ‘ফ্রি’ বা বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা উচিত ছিল। চড়া ফি নির্ধারণের এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই যৌক্তিক হয়নি এবং এনসিপি তাদের পরবর্তী দলীয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রতিবাদ জানাবে।
টিকিট মূল্যের একটি তুলনামূলক চিত্র:
| ক্যাটাগরি | জাতীয় জাদুঘর | গণ-অভ্যুত্থান জাদুঘর (প্রস্তাবিত) |
| প্রাপ্তবয়স্ক (দেশি) | ২০ টাকা | ১০০ টাকা |
| শিশু (দেশি) | ১০ টাকা | ৫০ টাকা |
| সার্কভুক্ত বিদেশি | ৩০০ টাকা | ৫০০ টাকা |
| অন্যান্য বিদেশি | ৫০০ টাকা | ২,০০০ টাকা |


















