বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন যে, একটি বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচনের আগে ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে মিরপুরের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢাকা-১৪ আসনের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষের লোকেরা ইতিমধ্যে ‘নকল সিল’ বানাতে গিয়ে ধরা পড়েছে। অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল সবসময়ই সংকটের সময় জনগণকে ফেলে স্বৈরাচারের হাত মিলিয়েছে। এই অপশক্তির হাত থেকে ভোটের অধিকার রক্ষায় ভোটারদের সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের রায়কে কেউ যেন পাল্টে দিতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।”
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সহায়তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে ঢাকার প্রতিটি সংসদীয় আসনে অন্তত একটি করে আধুনিক কারিগরি ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা হবে। বিদেশগামী শ্রমিকদের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে যাওয়ার চিরচেনা সংকট দূর করতে সরকার থেকে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে প্রতিটি এলাকায় ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে সামান্য চিকিৎসার জন্য সাধারণ মানুষকে হাসপাতালে দৌড়াতে না হয়।
দীর্ঘ সংগ্রামের পর অর্জিত ভোটের অধিকারকে দেশ পুনর্গঠনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই ভোট হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ভোট। জনসভায় তিনি ঢাকা-১৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন চেয়ে প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে আমূল পরিবর্তন আনা হবে। মিরপুরের এই জনসভায় হাজার হাজার নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর নির্বাচনী আমেজ তৈরি করে।



















