এজেন্টদের বাধা ও ‘বানোয়াট’ নিয়মের অভিযোগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ (খিলগাঁও-সবুজবাগ-মুগদা) আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা তাঁর পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকালে রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তাঁর এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন ‘বানোয়াট’ নিয়ম দেখিয়ে তাঁদের হেনস্তা করা হচ্ছে। তাসনিম জারা প্রশ্ন তোলেন, “বলা হচ্ছে পোলিং এজেন্টকে ওই এলাকার ভোটার হতে হবে, কিন্তু নির্বাচনী আইনে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আবার পুরুষ কেন্দ্রে নারী এজেন্ট দেওয়া যাবে না—এমন অদ্ভুত অজুহাতও দেওয়া হচ্ছে।”
ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন পেশায় চিকিৎসক ও সমাজকর্মী তাসনিম জারা আরও অভিযোগ করেন যে, অনেক কেন্দ্রে তাঁর এজেন্টদের প্রবেশ করতে না দিলেও ভেতরে ভোটগ্রহণ চলছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “এজেন্ট ছাড়া এই ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া কীভাবে সুষ্ঠু হতে পারে?” তিনি আরও জানান, এজেন্টদের ফোন সঙ্গে রাখতে দেওয়া হলেও তা ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে কেন্দ্রের ভেতরের খবর বাইরে পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। উল্লেখ্য যে, এই আসনে তাসনিম জারা ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন এবং তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির মির্জা আব্বাস (ধানের শীষ)।
নির্বাচনী বিধি ও বাস্তবতা নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী, একজন প্রার্থী যেকোনো ব্যক্তিকে তাঁর পোলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন, তবে তাঁকে অবশ্যই ওই নির্বাচনী এলাকার (Constituency) ভোটার হতে হবে—এমন কোনো কঠোর নিয়ম নেই (সাধারণত সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটার হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়)। এছাড়া পুরুষ কেন্দ্রে নারী এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রেও আইনি কোনো বাধা নেই। তাসনিম জারার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা-৯ আসনের বর্তমান পরিস্থিতি খিলগাঁও ও মুগদা এলাকার অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে তাসনিম জারার অভিযোগের পর ওই আসনের বেশ কিছু কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল জোরদার করেছেন। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি, তবে এজেন্ট সংক্রান্ত এই জটিলতা ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



















