উপকরণ বিতরণ ও কেন্দ্রের প্রস্তুতি আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ক গণভোটের জন্য আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলা ও আঞ্চলিক রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, অমোচনীয় কালি এবং অন্যান্য মনিহারি দ্রব্য বুঝে নিচ্ছেন। ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, দুর্গম এলাকা ও দূরবর্তী কেন্দ্রগুলোতে আজ বিকেলের মধ্যেই সব উপকরণ পৌঁছে দেওয়া হবে। সারাদেশে মোট ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা বিবেচনায় ২১,৫০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে বিশেষ নজরদারি ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
ভোটার ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের পরিসংখ্যান এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন ১,২৩২ জন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে সারাদেশে মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োজিত আছেন। এর মধ্যে ৪২,৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ৬৪ জন জেলা প্রশাসক ও ৩ জন আঞ্চলিক কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন।
ব্যালট পেপারের রঙ ও ভোটদানের নিয়ম নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, ভোটাররা এবার কেন্দ্র থেকে দুটি ভিন্ন রঙের ব্যালট পেপার পাবেন। সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত প্রতীকের ব্যালট পেপার এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুমোদনের জন্য গোলাপি রঙের গণভোটের ব্যালট পেপার। দুটি ব্যালটই একই স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে জমা দেওয়া যাবে। তবে ব্যালট ভাঁজ করার সময় এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে যেন সিলের কালি অন্য কোনো প্রতীকে না লাগে। ব্যালট পেপারের পেছনে প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর ও সিল নিশ্চিত করা ভোটারের দায়িত্ব।
প্রার্থী ও দলীয় সমীকরণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও এবার ব্যাপক বৈচিত্র্য দেখা গেছে। ২৯৯টি আসনে (শেরপুর-৩ স্থগিত রেখে) মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২,০২৮ জন, যার মধ্যে ১,৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নারী প্রার্থীদের সংখ্যা এবার ৮৩ জন, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। প্রার্থীদের মধ্যে পুরুষ দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ১,৬৯২ জন। কমিশন জানিয়েছে, শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে স্থগিত হওয়া নির্বাচন পরবর্তীতে নতুন তফসিলে অনুষ্ঠিত হবে।



















