ইরানে চলমান ভয়াবহ বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনা কিছুটা শিথিলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ সূত্র’ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং পরিকল্পিত ফাঁসিগুলো স্থগিত করা হয়েছে। এর পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার হুমকি দিলে তেহরানও পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তবে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পের কণ্ঠে আগের চেয়ে কিছুটা সংযত মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়াতে অনীহা বোধ করছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘মুখরক্ষার পথ’ হিসেবে ব্যবহার করে সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে পারেন।
বর্তমান পরিস্থিতির মূল পয়েন্টগুলো:
- মার্কিন অবস্থান: কাতার বিমানঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নিলেও ট্রাম্প সামরিক বিকল্প পুরোপুরি নাকচ করেননি। তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
- ইরানের দাবি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি দাবি করেছেন, পরিস্থিতি এখন সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং বিক্ষোভের নামে চলা ‘সন্ত্রাসবাদ’ দমন করা হয়েছে।
- মানবাধিকার উদ্বেগ: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও অন্যান্য সংস্থাগুলো মাথায় ও চোখে গুলি করে ‘বেআইনি হত্যাকাণ্ডের’ নজিরবিহীন প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টদের মতে, নিহতের সংখ্যা ২,৪০০ ছাড়িয়েছে।
- টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: ইরানে গত ১৪৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যাকে ‘টোটাল ব্ল্যাকআউট’ বলছে নেটব্লকস।
যদিও ট্রাম্পের বক্তব্যে যুদ্ধের মেঘ কিছুটা সরেছে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে আইআরজিসি প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর জানিয়েছেন, যেকোনো ‘ভুল হিসাবের’ জবাব দিতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুত। সাধারণ ইরানিরা এখনো এক অজানা যুদ্ধের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরার এক্সপ্লেইনার



















