ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৩১ দিন বাকি। নির্বাচন শেষে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জাতীয় সংসদ ভবন এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। চলছে ব্যাপক সংস্কার ও মেরামত কাজ, তবে সময়মতো তা শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে জাতীয় সংসদ ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। এতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করা হয়েছে। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, হুইপের কার্যালয়, সংসদীয় কমিটির কক্ষ, আইটি সেন্টার, ভিআইপি কক্ষ, সম্প্রচার ব্যবস্থা, ই-ভোটিং প্রযুক্তি, এসি, কম্পিউটারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়। এমপি হোস্টেল ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনেও ভাঙচুর চালানো হয়। প্রায় ৯০ লাখ টাকা লুট হয়, যার উদ্ধারকৃত অংশের বেশির ভাগই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
সরকার গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ ভবন ব্যবহারোপযোগী করার সময়সীমা নির্ধারণ করলেও তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সংস্কার কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে কত দিনের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো কাজ শেষ না হলেও আগামী অধিবেশনের আগেই অন্তত প্রধান অংশগুলো ব্যবহারোপযোগী করা সম্ভব হবে। তবে মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো সংস্কার কাজ শেষ করতে আরও অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। অনেক কারিগরি কাজ এখনো শুরুই করা যায়নি। বাজেট ঘাটতি এবং গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন কাজে নতুন ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের প্রভাব কাজের মান ও গতি—দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, অধিবেশন কক্ষ, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে নতুন আসবাব স্থাপন, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং ‘স্মার্ট পার্লামেন্ট’ গড়ার কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। লুই আই কানের মূল নকশা অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার করায় কাজটি আরও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।
এদিকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মত দিয়েছে এবং এ নিয়ে নির্বাচনের দিন গণভোট হওয়ার কথা। তবে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, উচ্চকক্ষ কোথায় স্থাপন করা হবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগও নেই।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলেন,
“সংসদের বড় একটি অংশের কাজ করছে গণপূর্ত বিভাগ। তারা ভালো বলতে পারবে। তবে এটুকু বলতে পারি, সংস্কারের কাজ এগিয়ে চলছে।”
সব মিলিয়ে নির্বাচন ও নতুন সংসদের অধিবেশন শুরুর সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সংসদ ভবনের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অন্তত জানুয়ারির শেষ নাগাদ অধিবেশন কক্ষ ও প্রধান ব্লকগুলোর কাজ শেষ হবে। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ও ‘স্মার্ট পার্লামেন্ট’ গড়ে তুলতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।


















