আজ রোববার ভোরের আলো ফোটার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। নামাজ শেষে তিনি দলীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসেনানি এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদীর কবর জিয়ারত করতে যান। এসময় জামায়াতের আমীর ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এই তরুণ বীরের রুহের মাগফিরাত কামনায় দীর্ঘ সময় মোনাজাত করেন। জামায়াতের আমীরের সঙ্গে এই জিয়ারতে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদসহ জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সংগঠকগণ।
শহীদ ওসমান হাদীর এই অকাল বিদায় এবং তাঁর আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতেই আজ ভোরে এই জিয়ারতের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক পরদিনই রাজধানীর পুরানা পল্টনে অত্যন্ত বর্বরোচিতভাবে তাঁর মাথায় গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলেও গত বৃহস্পতিবার তিনি সেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত তাঁর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল, যা প্রমাণ করে দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান কতটা উঁচুতে ছিল। ওসমান হাদীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে গতকাল সারা দেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং পালন করা হয় রাষ্ট্রীয় শোক।
সারা দেশ যখন নির্বাচনী আমেজে প্রবেশ করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ওসমান হাদীর মতো একজন সম্ভাবনাময় নেতার বিয়োগান্তক মৃত্যু গোটা জাতিকে শোকবিহ্বল করে তুলেছে। সিঙ্গাপুর থেকে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পর ময়নাতদন্তসহ যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে সমাহিত করা হয়। জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বিভিন্ন বার্তায় বারবার উল্লেখ করেছেন যে, ওসমান হাদী কেবল কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের নেতা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও তারুণ্যের এক বলিষ্ঠ প্রতীক। আজকের জিয়ারতের মাধ্যমে নেতৃবৃন্দ আবারও সেই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন যে, যে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ওসমান হাদী নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই স্বপ্নপূরণে তারা অবিচল থাকবেন।



















