সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তিন দলের সমন্বয়ে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ নামে নতুন নির্বাচনি জোট ঘোষণা করেছেন। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। আলোচনায় থাকা গণঅধিকার পরিষদ (নুরুল হক নুর) জোটে না এলেও, এতে রয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, দখলদারিত্ব ও ধর্মভিত্তিক ভোটব্যবসা শিগগিরই শেষ হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ভোট দখল, জবরদস্তি ও আধিপত্যবাদী আচরণ নির্বাচনি সংস্কৃতিতে নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকেই এখনো সেই পুরোনো আচরণ করছে।
নাহিদ ইসলাম জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার রক্ষা ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরির বিষয়ে আরও কিছু দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিগগিরই তারা জোটে যুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ জোট শুধু নির্বাচনি নয়, বরং ‘গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা টিকিয়ে রাখার রাজনৈতিক জোট’ — বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই লড়াই হয়েছে। তাই নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং দেশ বদলের রাজনৈতিক নির্বাচনে রূপ দিতে চান তারা। সংস্কার বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তির যাত্রা অব্যাহত রাখা এবং পরিবর্তনের রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে তিন দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে।
ঐক্যমত কমিশনে সংস্কার বাধাগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রত্যক্ষ–পরোক্ষভাবে বহু শক্তি সংস্কারের বিরোধিতা করেছে। কিন্তু যারা সত্যিকারের পরিবর্তনের পক্ষে, তারা এই নতুন ঐক্য প্রক্রিয়ায় একত্র হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে পুরোনো রাজনীতির পথে ফিরতে দেব না।”
জোটে দল বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পক্ষ থেকে ‘সিটের লোভ দেখানো’ হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। এসব প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান তিনি। তার দাবি—বাংলাদেশে পরিবর্তনের শক্তি ও তারুণ্যের উত্থান জোটের পক্ষে রয়েছে।
৩শ আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জোট অবশ্যই সব আসনে প্রার্থী দেবে। ঘোষণা পরে জানানো হবে।
এ সময় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু জোটের মুখপাত্র হিসেবে নাহিদ ইসলামের নাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক দিশা দিতে বহু চেষ্টার পর অবশেষে নতুন যাত্রা শুরু হলো।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা গড়ে উঠেছে, তা পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণতা পাবে। তিনি দাবি করেন, সংস্কারের পক্ষে কেবল এই তিন দল নয়, দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক শক্তিই এই আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে।



















