মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি আইনজীবীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রায়ে স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ায় এখন প্রসিকিউশন ও গ্রেপ্তার আসামিপক্ষ আইন অনুযায়ী রায় পর্যালোচনা করতে পারবে। রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকলেও দুই প্রধান আসামি পলাতক থাকায় তারা আপিল করতে পারছেন না।
এ মামলার আরেক আসামি ও রাজসাক্ষী পুলিশের সাবেক আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন পাঁচ বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না—তা পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
রায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চলমান সহিংসতায় শেখ হাসিনা ও মন্ত্রিপরিষদের নেতৃস্থানীয়দের দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কিত বিস্তৃত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। ড্রোন, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা, বিভিন্ন এলাকায় গুলি ও হত্যার ঘটনাসহ ভিডিও–অডিও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
আজ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫–এ পূর্বাচলের ৩০ কাঠা প্লট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। শেখ হাসিনা, তার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ মোট ৪৭ জন এ মামলার আসামি। দুদক জানিয়েছে, তারা সাক্ষ্য–প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে এবং সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করেছে।
এদিকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতের সঙ্গে বৈদেশিক যোগাযোগ চলছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকার পাঠানো অনুরোধপত্র তারা পেয়েছে এবং তা আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করছে। বাংলাদেশ এখনো আনুষ্ঠানিক জবাব পায়নি।
অন্যদিকে অগ্রণী ব্যাংকের লকার থেকে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার নিয়ে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, স্বর্ণগুলো শেখ হাসিনা ছাড়াও তার বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত। কোন অংশ কার—তা যাচাই করে আলাদা করা হচ্ছে।



















