জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্রমাগত বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে নরওয়ে অন্যতম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে দেশটি সবসময় সহযোগিতা করে আসছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনগুলো সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। ওই সময়ে গুম, খুন, সন্ত্রাস ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ তৎকালীন বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্পিকার।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ওই শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে স্পিকার বলেন, বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে নরওয়েসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ সহযোগিতা করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে নরওয়ের কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান স্পিকার।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় নরওয়ে সবসময় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময় এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে মতবিনিময় হয়। এ ছাড়া চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম ও জুলাই সনদ নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।
বৈঠকে নরওয়ে দূতাবাসের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


















