যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন ‘নো কিংস’ আন্দোলনের কর্মীরা। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে শনিবার ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এবার বিক্ষোভের পাশাপাশি ভোটারদের সচেতন করা এবং আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
কোথাও গাড়ির বহর নিয়ে হর্ন বাজিয়ে, কোথাও সংগীতানুষ্ঠান ও ছোট ছোট জমায়েতের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করা হয়। বড় সমাবেটল ভবনের কাছে ছাতা হাতে দাঁড়িয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাবিন কার্লসন। তাঁর ছাতায় লেখা ছিল, ‘ভোট, ক্ষমতা, জনগণ’। ৬৬ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট বলেন, ক্ষোভ প্রকাশ ও অভিযোগ জানানোর অনেক কারণ থাকলেও সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো ভোট দেওয়া।
কার্লসনের মতে, কোথায় ও কীভাবে ভোট দিতে হবে এবং ভোটার নিবন্ধন ঠিক আছে কি না, সে বিষয়ে মানুষের পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। ভুল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যাতে কেউ সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়েও সচেতনতা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় নির্ধারিত নির্বাচনের দিনের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চাইছেন ‘নো কিংস’ আন্দোলনের আয়োজকেরা।শের পরিবর্তে বিভিন্ন এলাকায় ছোট পরিসরে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোই ছিল আয়োজকদের অন্যতম লক্ষ্য।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ‘নো কিংস’ কর্মসূচি পালিত হলো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ট্রাম্প নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে বা রাজার মতো প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন, যা মার্কিন সংবিধানের মূলনীতির পরিপন্থী।
ভোটারদের সচেতন করায় গুরুত্ব
এবারের কর্মসূচিতে শুধু ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশেই সীমাবদ্ধ থাকেননি আন্দোলনকারীরা। ভোটার নিবন্ধন, ভোটকেন্দ্র খুঁজে পাওয়া এবং ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন তাঁরা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় আগাম ভোট শুরু হয়েছে, সেখানে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের ক্যাপি
ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কমন কজের তৃণমূল সংগঠক আলমা কুভার্থি বলেন, ভোট দেওয়াকে মানুষ যেন ক্ষমতা প্রয়োগ, দায়িত্ব পালন ও আনন্দের কাজ হিসেবে দেখেন, সেটিই তাঁদের লক্ষ্য।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ
এদিকে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার কথাও বলা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি—এমন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে ভোটারদের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি এবং ভোটের ফলাফলের ওপর।


















