স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও চ্যালেঞ্জ দূর করতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি স্তরে পর্যায়ক্রমে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ: নকশা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট কর্মশালাটির আয়োজন করে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হলেও একসঙ্গে সব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা কঠিন। তাই নির্দিষ্ট কিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন ও এর আওতাধীন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। এ আইনের ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের আইন পর্যালোচনা ও সমন্বয় করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসার খরচ সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বহন করতে হওয়ায় অনেকেই চরম দুর্ভোগে পড়েন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিমার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নারীদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গর্ভকালীন সময়ে মা ও নারীদের যেন বিব্রতকর পরিস্থিতি কিংবা হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তের পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। কম খরচে দেশের উপজেলা পর্যায়ে এসব সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।


















