ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবং ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আয়োজিত আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে প্রায় তিন হাজার মানুষকে আটক করে পুলিশ। পরে রাতের দিকে অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনকারীর হেফাজতে থাকার খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পিনারাই বিজয়নের মতো পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা এখনো হেফাজতে রয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ রাখা, ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করে পরিস্থিতিকে অঘোষিত জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, সরকারের দমনমূলক পদক্ষেপের মধ্যেও গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিক্ষোভকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশ সংসদীয় নিয়ম ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
এদিকে, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিক্ষোভের আয়োজক সিজেপি। পাশাপাশি সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিরোধী দলগুলো।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনা ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি


















