বৃহস্পতিবার , ৮ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

মক্কা চুক্তির আওতায় অন্য দেশে হামলা চালাবে না তুরস্ক: ফিদান

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৭:০৪ অপরাহ্ণ

Spread the love

মক্কা চুক্তির আওতায় কোনো সদস্যদেশের ভূখণ্ডে গিয়ে আক্রমণাত্মক অভিযান চালাতে তুরস্ক সেনা মোতায়েন করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

বৃহস্পতিবার এক বক্তব্যে তিনি বলেন, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানো নয়; বরং কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে তাকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়া।

হাকান ফিদান বলেন, মক্কা চুক্তি অনুযায়ী কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরা তার সুরক্ষায় এগিয়ে আসবে। এটি কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক জোট নয়। অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ডে গিয়ে হামলা চালানোর জন্য তুরস্ক সেনা পাঠাবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

তুর্কি পার্লামেন্টে যাচ্ছে চুক্তি

মক্কা চুক্তি অনুমোদনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টে পাঠানোর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান ফিদান।

তিনি বলেন, চুক্তিটি সংসদে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হয়েছে। এখন এটি তুর্কি পার্লামেন্টের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে।

চুক্তি কার্যকর হলে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামো আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সৌদির নিরাপত্তায় সহায়তার পথ খুঁজছে তুরস্ক

ইয়েমেনের ইরানঘনিষ্ঠ হুতি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সৌদি আরবকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা তুরস্ক পর্যালোচনা করছে বলেও জানিয়েছেন ফিদান।

তিনি বলেন, ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের ওপর চালানো হামলা মোকাবিলায় রিয়াদকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে আঙ্কারা কাজ করছে। তবে এই সহায়তার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

একই সঙ্গে অন্য কোনো দেশে গিয়ে তুরস্কের সেনাবাহিনী আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করবে না—এই অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন ফিদান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তুরস্কের সম্ভাব্য ভূমিকা মূলত প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার মধ্যেই সীমিত থাকবে।

মক্কা চুক্তিকে আক্রমণাত্মক জোট হিসেবে দেখছে না আঙ্কারা

মক্কা চুক্তির প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফিদান এর প্রতিরক্ষামূলক চরিত্রের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, কোনো সদস্যদেশের ওপর হামলা হলে অন্য সদস্যদেশগুলো তার পাশে দাঁড়াবে—এটাই চুক্তির মূল নীতি। তবে এর অর্থ সদস্যদেশগুলো অন্য কোনো দেশে গিয়ে সামরিক হামলা চালাবে, এমন নয়।

ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে চুক্তিটির সামরিক প্রয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে তুরস্কের এই অবস্থান সামনে এলো।

ইসরায়েলের নির্বাচনে নীতির পরিবর্তন আশা করছে না তুরস্ক

ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন হবে বলে তুরস্ক আশা করছে না বলেও জানান ফিদান।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর ইসরায়েলের পররাষ্ট্রনীতিতে বিশেষ কোনো পরিবর্তন হবে বলে আঙ্কারা প্রত্যাশা করছে না।

ফিলিস্তিন ইস্যু, গাজা যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়ে তুরস্ক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো

মক্কা চুক্তিকে ঘিরে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি নতুন কাঠামো গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া চলছে। চুক্তিটির মূল নীতি হলো, কোনো সদস্যদেশের ওপর হামলা হলে তা অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং আক্রান্ত দেশকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়া হবে।

তুরস্কের পক্ষ থেকে চুক্তিটিকে আক্রমণাত্মক সামরিক জোট হিসেবে না দেখানোর বক্তব্যে আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের হুতিদের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রিয়াদকে তুরস্ক কী ধরনের সহায়তা দেবে, তা মক্কা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ - অপরাধ