দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে ঢাকার হাসপাতালগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সভা শেষে রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য শয্যা খালি করতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের কিছু রোগীকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ঢামেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ নিয়ে মঙ্গলবার একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়াতে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শয্যা সংখ্যা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানীর বাইরে থেকে আসা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য কুর্মিটোলা মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মঙ্গলবারের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এ নিয়ে ২০২৬ সালে দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে।
একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৯৯৬ জন। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৩৫৬ জন।
সেপ্টেম্বরে মৃত্যু ১৪৮, অক্টোবরে ছয় দিনে ৩৬
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের মাস আগস্টে মারা যান ৪৩ জন। জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অক্টোবরের প্রথম ছয় দিনেই ডেঙ্গুতে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে চলতি মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোর শয্যা ও চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে


















