বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেল অবকাঠামো প্রত্যাশিত কাজে আসছে না। কোথাও আধুনিক আইকনিক রেলস্টেশন নির্মাণের পরও যাত্রীসেবা সীমিত, কোথাও স্টেশন ভবন তালাবদ্ধ, আবার কোথাও রেলপথ চালু করা হলেও তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। পরিকল্পনা, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে এসব স্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কক্সবাজারে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত আইকনিক রেলস্টেশনটি বর্তমানে প্রত্যাশিত মাত্রায় ব্যবহার হচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে চিলাহাটিতে নির্মিত আইকনিক রেলস্টেশনও চালুর পর থেকে তালাবদ্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ নির্মাণের পর থেকেই কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাই-টেক পার্কের জন্য নির্মিত রেলস্টেশনেও ট্রেন না থামায় স্থাপনাটির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শত কোটি টাকার স্থাপনা, সেবা সীমিত
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চিলাহাটিতে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্টেশন ভবন তালাবদ্ধ রয়েছে। অন্যদিকে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক রেলস্টেশন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। কিন্তু সেখানে ট্রেন না থামায় যাত্রীসেবায় স্থাপনাটির কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এসব প্রকল্পে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হলেও সেগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় প্রশ্ন
রেল অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে শুধু ভবন বা রেলপথ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে যাত্রী চাহিদা, ট্রেনের যাত্রাবিরতি, সংযোগব্যবস্থা, জনবল এবং নিয়মিত পরিচালনার পরিকল্পনাও জরুরি। এসব বিষয় যথাযথভাবে নিশ্চিত না হলে বড় বিনিয়োগের পরও প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
কক্সবাজার, চিলাহাটি, ঈশ্বরদী-রূপপুর ও কালিয়াকৈরের স্থাপনাগুলো নিয়ে ওঠা প্রশ্ন রেল প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং নির্মাণ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
জনগণের অর্থে নির্মিত এসব অবকাঠামো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হলে প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা, ব্যবহার না হওয়ার কারণ এবং সেবা চালুর বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।


















