শনিবার , ৩ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

এলপিজির কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ, পাঁচ কোম্পানির মজুত খতিয়ে দেখার নির্দেশ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১২:০৫ অপরাহ্ণ

Spread the love

দেশে এলপিজির আমদানি ও সামগ্রিক সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও বাজারে সংকট তৈরি এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে আমদানি করা এলপিজি বাজারে সরবরাহ না করে মজুত রাখা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পাঁচটি কোম্পানির মজুত ও সরবরাহব্যবস্থা তদন্তের সুপারিশ করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।

এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে আইগ্যাস, ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি ও যমুনা এলপিজির নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এসব কোম্পানি আমদানি করা এলপিজির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বা বাজারে ছাড়েনি—এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

এদিকে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় তা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

আমদানি স্বাভাবিক, তবু বাজারে সংকট

এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগস্টেও আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানির পরিমাণে বড় কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। এ অবস্থায় বাজারে সরবরাহ সংকটের কারণ খতিয়ে দেখার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে আমদানিকারকভিত্তিক এলপিজির চালান, খালাস, সংরক্ষণ, মজুত এবং বাজারে সরবরাহের তারিখ যাচাই করতে বলা হয়েছে। অক্টোবরের আগে আমদানি করা এলপিজি পরবর্তী সময়ে বেশি দামে বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সরবরাহ সীমিত করার কোনো ভূমিকা ছিল কি না এবং মজুতের পরিমাণ স্বাভাবিক বাণিজ্যিক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃত্রিম সংকট তদন্তে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ

বাজারে এলপিজির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ গত ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকদের এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা তদন্তের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির কারণও খতিয়ে দেখে প্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে এলপিজির সরবরাহে সামগ্রিক ঘাটতি নেই। তবে কোনো কোনো এলাকায় বেশি দামে বিক্রির জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের ঘটনা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠকেও দেশের সামগ্রিক আমদানি, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। তখন অপারেটররা দেশে এলপিজির কোনো সামগ্রিক সংকট নেই বলে জানিয়েছিলেন।

নির্ধারিত দামে বিক্রির নির্দেশ

এদিকে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা দেশের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট। ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেছে লোয়াব।

বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি বা অবৈধভাবে মজুত করলে অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংগঠনটি।

ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রাহক

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের নির্ধারিত দামে এলপিজি কিনতে না পারার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে স্থানীয় বাজারের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ফলে একদিকে সরকার ও এলপিজি ব্যবসায়ীরা সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার কথা বলছেন, অন্যদিকে খুচরা বাজারে সংকট ও অতিরিক্ত দামের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। এখন এনএসআইয়ের সুপারিশ অনুযায়ী আমদানি, মজুত ও বাজারে সরবরাহের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে সংকটের প্রকৃত কারণ নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত