রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর ও গুঁড়িয়ে দেওয়া, ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা এবং ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দখল ও সংঘর্ষের ঘটনায় বিব্রত সরকার। সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কারও কারও বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি দলটির জন্যও অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর ও অবৈধ দখলের ঘটনায় সরকার দুঃখিত ও বিব্রত। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা
মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়। ওই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে একটি প্রতিবেদনে; বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা
ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজের একটি আবাসন প্রকল্পে হামলা ও ভাঙচুরের সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওও ক্ষতিগ্রস্ত ও লুটপাটের শিকার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনাটির সঙ্গে ওই আবাসন প্রকল্পের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টুডিওটি হামলার মূল লক্ষ্য ছিল না; সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক পক্ষ সেখানে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে সালমান মুক্তাদির হামলাটিকে ভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর স্টুডিওতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।
বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। টিআইবি এসব ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
টিআইবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলা, দখল ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলসংক্রান্ত একাধিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার কয়েকটিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর সবকটির সত্যতা এখনো তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর তদন্ত ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


















