ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসন এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের ওপরে উঠেছে।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৮২ ডলার বা ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১৪ ডলার বা ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ৫৫ ডলারে পৌঁছেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। গত বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৬০ ডলারে উঠেছিল। দিনের একপর্যায়ে দাম ১০৮ ডলারের কাছাকাছিও পৌঁছে যায়।
পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনার খবর প্রকাশ হলে শুক্রবার তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৭ ডলারে নেমে আসে।
তবে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আবারও বাড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ। স্বাভাবিক সময়ে এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
এ কারণে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের নজর রয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তেলের দামেও ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র : আলজাজিরা।


















