বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে বিশেষ ‘মন্ত্রীর মর্যাদা’ দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার (২৪ জুন) ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (জননিরাপত্তা বিভাগ) এক বিশেষ অফিস স্মারকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভারতের অগ্রাধিকার সারণী (টেবিল অফ প্রেসিডেন্স) আনুষ্ঠানিকভাবে স্থায়ীভাবে সংশোধন না করেই তাঁকে সাময়িকভাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর সমতুল্য এই মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। এই বিশেষ সম্মান ও প্রটোকল শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক বা প্রটোকল-সংশ্লিষ্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, এটি অগ্রাধিকার সারণীর কোনো স্থায়ী সংশোধন হিসেবে বিবেচিত হবে না। ভারত সরকারের অধীনস্থ সচিব কমলেশ রবিদাসের নামে এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে।
আজ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ
পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরের সাবেক সংসদ সদস্য (MP) এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সিনিয়র নেতা দীনেশ ত্রিবেদী এর আগে দুই দফায় ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নতুন এই কূটনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণের উদ্দেশ্যে গত ৫ জুন তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছান। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ২৫ জুন) বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র (ক্রেডেনশিয়ালস) পেশ করার কথা রয়েছে। পরিচয়পত্র পেশের পরই তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে তাঁর কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করবেন।
দুই বাংলার সংস্কৃতি ও ভাষার সাথে সংযোগ
নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তিনি অত্যন্ত চমৎকার বাংলা বলতে পারেন। এছাড়া দুই বাংলার অভিন্ন ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনীতি ও সংস্কৃতির ওপর তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ও ভালো ধারণা রয়েছে। একজন ঝানু রাজনীতিক ও কূটনীতিকের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে উচ্চাঙ্গসংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ রয়েছে এবং একজন দক্ষ ‘সেতারবাদক’ হিসেবেও সংস্কৃতি অঙ্গনে তাঁর সুপরিচিতি রয়েছে। দুই বাংলার এই সাংস্কৃতিক সংযোগ ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ও মৈত্রী সম্পর্ককে আরও সহজ ও সুদৃঢ় করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


















