সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

কাতারের এলএনজি সরবরাহ স্থগিত, চাপে বাংলাদেশ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৯:৫১ অপরাহ্ণ

Spread the love

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে কাতার। এর ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে কাতারের নির্ধারিত এলএনজি কার্গো সরবরাহ নভেম্বর পর্যন্ত বাতিল বা স্থগিত থাকতে পারে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স ও ব্লুমবার্গ। রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার কয়েকজন ক্রেতাকে নভেম্বর পর্যন্ত ফোর্স ম্যাজিউর বহাল থাকার কথা জানানো হয়েছে। ভারতের অন্তত একজন ক্রেতাকেও একই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন জানিয়েছে, কাতার থেকে তাদের এলএনজি সরবরাহ ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। কাতারএনার্জি এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

যুদ্ধ শুরুর পর বাড়ছে স্থগিতাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পর থেকে কাতারএনার্জি তাদের এলএনজি ক্রেতাদের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত অবহিত করছে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং কাতারের এলএনজি অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে নির্ধারিত কিছু কার্গো বাতিল বা স্থগিত করা হচ্ছে।

এবারও আগের ফোর্স ম্যাজিউর নোটিসের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। ফলে এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতাদের বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের প্রয়োজন বাড়ছে।

‘ফোর্স ম্যাজিউর’ বলতে সাধারণত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা পক্ষগুলোর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কোনো পরিস্থিতির কারণে চুক্তির নির্দিষ্ট কিছু দায় সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ব্যবস্থা বোঝায়।

হরমুজে পরিবহন বাড়লেও কাটেনি সংকট

হরমুজ প্রণালি দিয়ে কাতারের এলএনজি পরিবহন কিছুটা বাড়লেও তা এখনও সংঘাতের আগের স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি। রয়টার্সের হিসাবে, আগস্টের শেষ নাগাদ কাতারের এলএনজি রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৬ শতাংশ কমে যায়। ওই সময় পর্যন্ত কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করতে পেরেছিল, যেখানে আগের বছর একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৫০৯টি কার্গো।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে কাতারের পাশাপাশি বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও চাপ তৈরি হয়।

শীতের আগে বাড়তে পারে গ্যাসের দামের চাপ

উত্তর গোলার্ধে শীতকাল শুরু হওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ায় গ্যাসের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কাতারের মতো বড় সরবরাহকারীর এলএনজি সরবরাহ কমে গেলে সীমিত বৈশ্বিক সরবরাহের জন্য এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

রয়টার্স জানিয়েছে, শীতকালীন গ্যাসের মজুদ পূরণে ইউরোপীয় ক্রেতাদের বিকল্প উৎসের দিকে যেতে হবে। এতে এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গেও সীমিত সরবরাহ নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে এবং গ্যাসের দাম উঁচু থাকতে পারে।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য দীর্ঘ সময় কাতারি এলএনজি না পাওয়া জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিকল্প উৎস থেকে বেশি দামে এলএনজি সংগ্রহের প্রয়োজন হলে আমদানি ব্যয়ও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

রাস লাফানেও কমেছে উৎপাদন

হরমুজ প্রণালির সংকটের পাশাপাশি কাতারের প্রধান এলএনজি রপ্তানি অবকাঠামো রাস লাফানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্চে হামলার পর স্থাপনাটি কম সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে বলে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে।

কাতারএনার্জি অবশ্য হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক হলে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর জন্য স্থাপনাটি প্রস্তুত রাখছে। তবে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

এ অবস্থায় নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে কাতারের এলএনজি সরবরাহ স্থগিত থাকার সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক গ্যাস বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।

সর্বশেষ - অপরাধ