জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সফরসঙ্গীরা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সফল হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর আগে নিউইয়র্কে মাহদী আমিন জানিয়েছিলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান ও নিজেদের বক্তব্য সুদৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় সরকার বা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী বলেন, নেতাকর্মীদের অতিরিক্ত ভিড় প্রধানমন্ত্রী পছন্দ করছেন না। তাঁর মতে, এ ধরনের অবস্থান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের একটি দিক তুলে ধরে।
প্রেস উইংয়ের সদস্যরা জানান, পাঁচ দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সরকারের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে রোববার সকালে তিনি দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।


















