শনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

জামায়াতের লংমার্চে নজর বিএনপির, নেই পাল্টা কর্মসূচি

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১:৩০ অপরাহ্ণ

Spread the love

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক লংমার্চ ও অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নজর রাখছে বিএনপি। একই সঙ্গে বিরোধী দলের এসব কর্মসূচির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী দলের কর্মসূচির জবাব দেওয়া হলেও আপাতত এসব কর্মসূচিকে বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছে না দলটি। ফলে বিরোধীদের কর্মসূচির জবাবে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনাও নেই।

বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, সরকারে থেকে বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। তবে দলের একটি অংশ মনে করে, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকলে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সম্প্রতি জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চ করে জোটটি। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে আরেকটি লংমার্চের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগীয় শহর অভিমুখেও কর্মসূচি করার ঘোষণা দিয়েছে জোটটি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এর আগে বলেছেন, বিরোধী দলের লংমার্চ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন সবার অধিকার। তবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধীদের বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বিএনপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার যদি বিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে সংসদে সেসব কর্মসূচির প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে কেন।

৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে ভুগছে এবং এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতেই তাদের কর্মসূচি। তিনি আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানান।

এর বিপরীতে বিএনপি নেতারা বলছেন, বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি পালন রাজনৈতিক অধিকার। তবে এসব কর্মসূচির কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সরকার পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আপাতত রাজপথে পাল্টা কর্মসূচির পরিবর্তে সরকারি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের মোকাবিলা করার কৌশলেই থাকতে চায় বিএনপি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে, বিরোধীদের ধারাবাহিক কর্মসূচির জবাবে দলটি একই ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে না। ক্ষমতায় আসার পর দলের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে দলটির নেতারা মনে করেন।

তবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা নিয়মিত কর্মসূচি চালিয়ে গেলে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক অবস্থান জনগণের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে বলে বিএনপির ভেতরে কেউ কেউ মনে করছেন।

এদিকে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় মাঠপর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতাও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিরোধী দলগুলো নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম কতটা সক্রিয় থাকে, সেটিও আগামী দিনের রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

সর্বশেষ - অপরাধ