শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশের সব মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনকে শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্রমতে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে অবতার শ্রীকৃষ্ণের জন্ম। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মথুরায় অত্যাচারী কংসের শাসনামলে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। পরবর্তী সময়ে তাঁর হাতে কংসের অত্যাচারী শাসনের অবসান হয়। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রীকৃষ্ণ তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়, সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মানবপ্রেম ও ন্যায়ের আদর্শ তুলে ধরেছেন। সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভক্তি, মানবকল্যাণ ও শান্তির যে দর্শন তিনি প্রচার করেছেন, তা আজও সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব মানুষের জন্য গভীরভাবে প্রেরণাদায়ী।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে। বাংলাদেশেও যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন। এই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখা দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমাদের সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, কেউ যেন সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও শিক্ষা দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।
সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় সমৃদ্ধ একটি জনকল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।


















